

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানুষের জীবন কখনোই বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্ত নয়। দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরীক্ষা করেন সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা এবং স্বচ্ছলতা-সংকটের মাধ্যমে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদের ক্ষতি ও রোগের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন।
এই পরীক্ষার মুহূর্তে একজন মুমিনের প্রধান আশ্রয় হলো আল্লাহর কাছে দোয়া ও তাওবা। রোজার মাস যেহেতু রহমত, মাগফিরাত ও দোয়া কবুলের মাস, তাই কঠিন বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির জন্য এই সময়ে দোয়া করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” এই আয়াত প্রমাণ করে যে, দোয়া কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নয়; বরং বিপদ থেকে মুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
বিশেষ করে রোজার সময় বান্দা যখন সংযম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির মধ্যে থাকে, তখন তার দোয়া আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা পায়। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—এর মধ্যে একজন হলো রোজাদার, ইফতারের আগ পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ "রাব্বানা জলামনা আনফুসানা...": নিজের ওপর জুলুম করলে যে দোয়া পড়বেন।
কঠিন বিপদ থেকে মুক্তির জন্য কুরআনে বর্ণিত নবীদের দোয়াগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের দোয়া। তিনি গভীর বিপদে পড়ে বলেছিলেন, “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।”
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, আমি তাঁর দোয়া কবুল করেছি এবং তাঁকে দুঃখ-কষ্ট থেকে উদ্ধার করেছি। আলেমগণ বলেন, যে ব্যক্তি বিপদের সময় এই দোয়া আন্তরিকভাবে পড়ে, আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন। রোজার মাসে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া বিশেষভাবে উপকারী।
রোগবালাই থেকে শিফা লাভের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়াগুলো পড়তেন, সেগুলোও আমাদের জন্য সুন্নত ও অনুসরণযোগ্য। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, নবীজি অসুস্থ হলে বা কারও জন্য দোয়া করলে বলতেন, “আল্লাহুম্মা রব্বান্ নাস, আজহিবিল বাস, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফাউকা, শিফা’আন লা ইউগাদিরু সাকামা।”
আরও পড়ুনঃ চোখের গুনাহ মাফের জন্য রমজানে বিশেষ দোয়া
এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে নেয় যে, প্রকৃত শিফাদাতা একমাত্র আল্লাহ। ওষুধ বা চিকিৎসা শুধু মাধ্যম, আর আরোগ্য আসে আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
রমজানে রোগবালাই থেকে মুক্তির দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করাও একটি বড় ইবাদত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো মুমিনের শরীরে কাঁটার খোঁচা লাগলেও তার মাধ্যমে তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, রোগ শুধু কষ্ট নয়;
বরং এটি গুনাহ মাফের মাধ্যমও হতে পারে, যদি বান্দা ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়। রোজার মাসে এই ধৈর্যের সওয়াব আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
কঠিন বিপদের সময় পড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো “হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল আজিম।” কুরআনে উল্লেখ আছে, এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। রোজার মাসে বিপদ, ঋণ, মানসিক চাপ বা ভয় থেকে মুক্তির জন্য এই দোয়াটি অন্তর থেকে পড়া অত্যন্ত উপকারী।
রমজানে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলো কাজে লাগানো জরুরি। ইফতারের আগ মুহূর্ত, রাতের শেষ অংশ এবং তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহর দরবারে কান্নাভেজা দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
আলেমগণ বলেন, বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির জন্য দোয়ার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ অনেক সময় গুনাহই বিপদের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুনঃ পিতা-মাতার জন্য দোয়া: রমজানে মৃত বাবা-মায়ের জন্য কী পড়বেন?
উপসংহারে বলা যায়, কঠিন বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির জন্য রোজার মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ সুযোগ। কুরআনে বর্ণিত নবীদের দোয়া, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো শিফার দোয়া, ধৈর্য ও তাওবার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সাহায্য লাভ করতে পারে।
রমজানে যদি বান্দা আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তবে কোনো বিপদই তার জন্য স্থায়ী থাকে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রোজার মাসে বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির জন্য সঠিকভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন।
মন্তব্য করুন

