শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজান মাসে রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির কার্যকরী দোয়া ও আমল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রিজিক শুধু অর্থ বা সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুস্থতা, সময়ের সদ্ব্যবহার, অন্তরের প্রশান্তি, নেক সন্তান, ইমানের দৃঢ়তা—সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনিই একমাত্র রিজিকদাতা এবং যাকে ইচ্ছা অগণিত রিজিক দান করেন।

রমজান মাস যেহেতু তাকওয়া অর্জনের মাস এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সময়, তাই এই মাসে রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির দোয়া ও আমলের গুরুত্ব আরও বেশি।

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি কোনো জনপদের মানুষ ইমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকত খুলে দিতাম। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, রিজিকের প্রকৃত চাবিকাঠি হলো তাকওয়া।

রমজানে রোজার মাধ্যমে যখন বান্দা সংযম ও আল্লাহভীতি অর্জন করে, তখন তার রিজিকেও আল্লাহ বরকতময় করে দেন। অনেক সময় অল্প উপার্জনেও শান্তি আসে, যা প্রকৃত বরকতের লক্ষণ।

রিজিক বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর আমলগুলোর একটি হলো বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। কুরআনে নবী নুহ আলাইহিস সালাম তার কওমকে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন।

আরও পড়ুনঃ চোখের গুনাহ মাফের জন্য রমজানে বিশেষ দোয়া

এই আয়াত প্রমাণ করে, ইস্তেগফারের সঙ্গে রিজিকের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রমজানে “আস্তাগফিরুল্লাহ” মনোযোগ ও অনুতাপের সঙ্গে বেশি বেশি পড়লে আল্লাহ তাআলা রিজিকের দরজা খুলে দেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রিজিক বৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া করতেন। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি বলতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান ত্বইয়্যিবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।”

এই দোয়ায় হালাল ও পবিত্র রিজিকের আবেদন করা হয়েছে, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। রমজানের সাহরি বা ইফতারের আগ মুহূর্তে এই দোয়াটি পড়া বিশেষভাবে উপকারী।

রমজানে রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো দান-সদকা। অনেক মানুষ মনে করে, দান করলে সম্পদ কমে যায়; কিন্তু কুরআন ও হাদিস তার বিপরীত শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা যা কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেন।

আরও পড়ুনঃ পিতা-মাতার জন্য দোয়া: রমজানে মৃত বাবা-মায়ের জন্য কী পড়বেন?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সদকা কখনো সম্পদ কমায় না। রমজানে গোপনে দান করা হলে তার সওয়াব ও বরকত বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, যা দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতে প্রভাব ফেলে।

রিজিকের বরকত বৃদ্ধির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কেরও গভীর যোগ রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি হোক এবং আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। রমজানে আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, মনোমালিন্য দূর করা এবং ক্ষমাশীল হওয়া রিজিকের পথে বড় বাধাগুলো দূর করে দেয়।

রিজিক বৃদ্ধির জন্য ফজরের নামাজের গুরুত্বও অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সময়ের জন্য বিশেষ বরকতের দোয়া করেছিলেন। রমজানে সাহরির পর ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা এবং নামাজের পর কিছু সময় জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে কাটালে দিনের পুরো সময়টায় আল্লাহর বরকত অনুভূত হয়।

অনেক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের সময়কে অবহেলা করে, সে নিজের রিজিকের বরকত নিজেই নষ্ট করে। রমজানে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলো কাজে লাগানো জরুরি। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে বান্দা যখন আল্লাহর সামনে হাত তোলে, তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

আরও পড়ুনঃ কঠিন বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির জন্য রোজার মাসের দোয়া।

এই সময় নিজের হালাল রিজিক, ঋণমুক্ত জীবন, ব্যবসা বা চাকরিতে বরকতের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা জরুরি, কারণ কুরআনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

সবশেষে বলা যায়, রমজান মাসে রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির জন্য কোনো জাদুকরী আমল নেই; বরং তাকওয়া, ইস্তেগফার, দোয়া, সদকা, নামাজ ও আল্লাহর ওপর ভরসাই মূল চাবিকাঠি।

যদি একজন মুমিন রমজানে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাআলা তার জীবনে এমন বরকত দান করেন, যা শুধু সম্পদে নয়—বরং পুরো জীবনে শান্তি ও কল্যাণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X