

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৫০)।
এদিকে এ ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ঘটনার পর বুধবার রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
জামায়াত আমির নিহত মাওলানা রেজাউল করিমকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা খুনের নেশায় মত্ত হয়েছে তাদের দ্রুত পাকড়াও করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেমন নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়, জনগণ এখন তা দেখতে চায়। কোনো ধরনের গড়িমসি জাতি বরদাশত করবে না।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠের কর্মসূচি ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি সমর্থকরা দেরিতে এসে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে মাওলানা রেজাউল করিম মৃত্যুবরণ করেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

