বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের রেমিট্যান্সে ভোগান্তি, হাসনাতের চার দফা প্রস্তাব

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ এএম আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ এএম
হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
expand

মালদ্বীপে কর্মরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে গিয়ে ধাপে ধাপে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

হাসনাত বলেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশিরা বেতন পান দেশটির মুদ্রা রুফিয়ায়। কিন্তু রুফিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশি টাকায় দেশে অর্থ পাঠানোর বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রবাসীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তার দাবি, প্রথম ধাপে রুফিয়াকে ডলারে রূপান্তর করতে গিয়ে প্রবাসীদের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সরকারি হিসাবে প্রতি ডলারের মূল্য ১৫ দশমিক ৪৬ রুফিয়া হলেও ডলার সংকটের কারণে খোলা বাজারে তা ২১ থেকে ২২ রুফিয়া দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে শুরুতেই প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এরপর অনানুষ্ঠানিক পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে গিয়ে আরও ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রবাসীরা। হাসনাতের দেওয়া হিসাবে, প্রতি রুফিয়ায় প্রায় সাড়ে পাঁচ টাকা পাওয়া গেলেও প্রকৃত মূল্যে প্রায় আট টাকা পাওয়ার কথা। ফলে মাসে ৫ হাজার রুফিয়া পাঠালে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাসনাত বলেন, এভাবে প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রও ক্ষতির মুখে পড়ছে। অনানুষ্ঠানিক পথে পাঠানো অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে গণনা হয় না, ফলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হচ্ছে না এবং প্রবাসীরাও সরকারি রেমিট্যান্স প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চার দফা সমাধানের প্রস্তাব

সমস্যা সমাধানে চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এগুলো হলো—রুফিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশি টাকায় রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা করা, মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা বা এক্সচেঞ্জ হাউস চালু করা, স্বীকৃত মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে বৈধ রেমিট্যান্স করিডোর চালু করা এবং মুদ্রা রূপান্তর ফি ও প্রণোদনার বিষয়টি স্বচ্ছ করা।

তিনি আরও বলেন, গত জুনে মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সঙ্গে বৈঠকে সরল রেমিট্যান্স ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আলোচনা হলেও এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

হাসনাত অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানান। তার মতে, নতুন আইন বা বড় প্রকল্পের প্রয়োজন নেই; দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা এবং একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্যোগেই সমস্যাটির সমাধান সম্ভব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank