বুধবার
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দিলেন আসিফ মাহমুদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন।

বিসিবি নির্বাচনের প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আগের নির্বাচনের সময় কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। এটি সংবিধানের বাইরে, কারণ বিসিবির নিজস্ব কনস্টিটিউশন অনুযায়ী কাউন্সিলরদের আনা হয়েছিল। কিন্তু তারা চেয়েছিল স্পোর্টসের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের নামও নির্বাচনে পাঠানো হোক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দমনমূলক প্রবণতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে আমরা দেখেছি, ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি খুব দ্রুতই, তাদের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখছি সমসাময়িক কিছু বিষয় যেমন, ২৮ জন বিচারককে শোকোজ দেয়া হয়েছে। আপনারা সবাই দেখেছেন। কিন্তু পেছনের কারণটা হয়তো অনেকেই জানেন না। বিচারকগণ তাদের একটা হোয়াটস গ্রুপে কিছু ডিসকাশন করছিলেন যেটা স্ক্রিনশট সরকারের পছন্দ হয়নি। ফলে সরকার তাদেরকে ওই স্ক্রিনশটের ভিতরে শোকজ দিয়ে বোঝালেন যে, রায় তো আমাদের পছন্দের বাইরে দিতেই পারবেন না। আপনারা নিজেদের মধ্যে কোন আলোচনা বা টেক্সটিংও করতে পারবেন না সরকারের যেটা পছন্দ হবে না। এটা একটা ইন্ডিকেশন যে আগামীতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কিভাবে চলতে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আবার গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। এটা আমরা দুই বছর পরে আবার নতুন করে দেখছি যেটা আমরা দুই বছর আগে দেখতাম। আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টিরও অঙ্গ সংগঠনের একজন শাখার যুগ্ম সদস্য সচিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখিত করার ফলে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে আসিফ বলেন, আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনার বিরুদ্ধে যদি কিছু লেখা না যায় তাহলে আপনি সংসারের দাঁড়িয়ে বলে দেন যে, আমার বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না লিখলে গ্রেফতার করা হবে। অথবা একটা আইন করে দেন, কোন সমালোচনা করা যাবে না কোন কথা বলা যাবে না স্যাটায়ারও করা যাবে না। যদিও আপনি উত্তর দিবেন কিনা জানিনা এটাও হয়তো সালাউদ্দিন ভাই উত্তর দিতে পারেন।

অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ইনটেনশন খুব স্পষ্ট, আমরা যেখান থেকে ২০২৪ সালের গণভুত্থানের পরে একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি, সেখান থেকে এখন উল্টা পথে হাঁটা শুরু করেছি। যেটা শেখ হাসিনা-র ভাষায় এবসলিউট পাওয়ার—সেটাই এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যত খারাপ কাজ করবে, যত জনবিরোধী কাজ করবে সেটা দ্রুতই করে ফেলুক, আমরা চাই। কারণ আমরা আবারো ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংবিধান পুনর্লিখনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এমন একটা পর্যায়ে উপনীত হয়েছি যে কম্প্রমাইজড ভার্সনটাও বাস্তবায়ন করতে পারছি না এবং সরকার সেটাকে পুরোপুরি বাতিল করে দিচ্ছে। যেই অধ্যাদেশগুলো সরকারের ক্ষমতাকেও কমায় না, যেমন ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ—সেগুলোকেও তারা বাতিল করে দিচ্ছে।

সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, টু থার্ড পাওয়ার ফলে এই সংসদ একটা অকার্যকর সংসদ হয়ে গেছে। সংসদ সদস্যরা কথা বললেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন