

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মিত্রদের নিয়ে আয়োজন করা প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যায়নি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (রব)। সরকার গঠনের দীর্ঘ পাঁচ মাস পর সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক দল ও সমমনা জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগেই বিএনপির শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাছে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। তবে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও এই বৈঠকে অংশ নেননি দাওয়াত পাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আজকের বৈঠকে বিএনপির অন্যতম শরিক দল জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউ কিংবা জমিয়তের কোনো প্রতিনিধিই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে যোগ দেননি।
এ বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দী এনপিবি নিউজকে বলেন, আমার দাওয়াত পেয়েছি তবে দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে অংশগ্রহণ করিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ না করাটা রাজনৈতিক জোট ত্যাগ করার কোন ইঙ্গিত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জমিয়তের শীর্ষ এই নেতা বলেন, জোট ত্যাগের সাথে এই বৈঠকে না যাওয়ার কোন সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না। তাছাড়া যে আঙ্গিকে জোট থাকার কথা সে আঙ্গিকে জোট আছে বলেও আমার দাবি করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জমিয়ত উলামার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া এনপিবি নিউজকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধি যাচ্ছেন না। আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ দাওয়াতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এনপিবি নিউজকে জানিয়েছেন, তাদের দল প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে অংশ নেবে না এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে বিএনপিকে চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
এর আগে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বিএনপির আচরণ ভালো ছিল না। এর বড় প্রমাণ হলো, নির্বাচনের পর আমাদের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই। কোনো কুশল বিনিময় বা বৈঠক পর্যন্ত নেই। বিএনপি আমাদের ক্রমাগত উপেক্ষা করছে।’
এদিকে আজকের বৈঠকে জমিয়তের অংশগ্রহণ না করার খবরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। বিশেষত জমিয়ত সভাপতির সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর অনেকেই বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে বিএনপির পক্ষ থেকে মূল্যায়ন বঞ্চিত হয়েই প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ বয়কট করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। জানা গেছে জমিয়ত ছাড়াও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও অংশ নিচ্ছে না এই বৈঠকে।