বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি 

মো. ইলিয়াস
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও সুবিধাভোগী জাতীয় পার্টি (জাপা) এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, জনসম্পৃক্ততার অভাব এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দলটি এখন নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চরম অস্তিত্ব সংকটে পরে জাতীয় পার্টি। রাষ্ট্র সংস্কার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে আওয়ামী লীগ ও এর জোটের রাজনৈতিক দল এবং জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে বড়ো ধাক্কা খেয়েছে দলটি। নির্বাচনে রংপুরে ঘটেছে দলটির চরম ভরাডুবি। চার দশকের ইতিহাসে প্রথম রংপুরসহ সারাদেশে ১৯৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলটি কার্যত নেতৃত্ব সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান পদ, বিরোধী দলীয় নেতৃত্ব এবং দলীয় সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকাশ্যে আসে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতি করতে গিয়ে জাতীয় পার্টি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। ফলে মাঠের রাজনীতিতে দলটির সক্রিয়তা কমেছে এবং তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

তবে জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দলটি। বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সফর শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় সাংগঠনিক চালানো হবে। এছাড়া নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা।

সূত্র মতে, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় পার্টি সরকার ও বিরোধী দল, দুই ভূমিকাতেই ছিল। ফলে দলটি একদিকে ক্ষমতার বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছে, অন্যদিকে স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দুর্বল করেছে। দেশের অন্যতম পুরোনো এ দলটি ধীরে ধীরে মুসলিম লীগের পরিণতির দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া এনপিবি নিউজকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা কম থাকে এটা স্বাভাবিক। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতীয় পার্টি ভাগ হয়ে যাওয়ার ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগেও জাতীয় পার্টি ছয়বার ভেঙেছে কিন্তু বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সংসদে যেতে না পারলেই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এমন বলার সুযোগ নেই। এর আগে বিএনপি জামায়াত ইসলামিও সংসদে যেতে পারেনি।

জাতীয় পার্টির রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এনপিবি নিউজকে বলেন, জাতীয় পার্টির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তাদের অবস্থা হবে মুসলিম লীগের মতো। আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে জাতীয় পার্টিকে ব্যাবহার করেছে। প্রতিটি দলের মূল থাকতে হয়। আর সেই মূল তৃণমূল পর্যন্ত পৌছাতে হয়, সেটা করতে পারেনি জাতীয় পার্টি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন