বৃহস্পতিবার
৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ পিএম আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

একীভূত শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন থেকে চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন।

আগে শুধু আমানতকারীর নিজের চিকিৎসার জন্য এই টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন এবং স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও এই অর্থ তোলা যাবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

ব্যাংক পাঁচটি হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য তৈরি করা পূর্বের স্কিমে সংশোধন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য তোলা হয়।

সংশোধিত স্কিমে আমানতকারীদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও অন্যান্য পারিবারিক জরুরি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ উত্তোলনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। পর্ষদ সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমানতকারীদের চিকিৎসার বাইরেও নানা পারিবারিক ও সামাজিক প্রয়োজনে জরুরি অর্থের দরকার হতে পারে। যেমন- মেয়ের বিয়ে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসা। আগের নীতিমালায় এই সুযোগ ছিল না।

নতুন সংশোধিত স্কিমে গ্রাহকদের সেই সুবিধা যুক্ত করা হলো।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। আর বাকি চার ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণকালে জামানত ছাড়াই ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়। এতে ব্যাংকগুলো চরম অর্থসংকটে পড়ে এবং সাধারণ আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

এই পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার এই শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। নবগঠিত এই ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া, আমানত বীমা তহবিল থেকে দেওয়া ১২ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে গ্রাহকদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট আমানত পর্যায়ক্রমে ফেরত দিতে একটি বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমানত বীমা তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরই ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর শেষে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকার, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন