

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, সব নাগরিককে অভিন্ন বাংলাদেশি জাতিসত্তার বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ করতে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম’। নেতাদের ভাষ্যমতে সংগঠনটির স্লোগান হলো—‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনুষ্ঠানে ফোরামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বিভেদ নয়, ঐক্য’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফোরামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করবে।
ফোরামের পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদেরও স্মরণ করা হয়।
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ বক্তব্যকে ফোরামের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
ফোরামের মিশন সম্পর্কে বলা হয়, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব বাংলাদেশি নাগরিককে অভিন্ন জাতিসত্তার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উসকানি, গুজব ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চিহ্নিত করে যাচাইকৃত তথ্যের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে আইনি, সামাজিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জবাবদিহিতা দাবি করার কথা জানিয়েছে ফোরাম।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ফোরামটি কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ, অহিংস ও আইনসম্মত পন্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে সংগঠনটি। ধর্মীয় পরিচয় যেন কোনো নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা কিংবা মর্যাদার মানদণ্ড না হয়—সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে ফোরাম।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ‘আমরা বহু, কিন্তু আমরা এক। আমাদের মন্দির, মসজিদ, গির্জা ও বিহার আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমাদের মাতৃভূমি একটাই, আমাদের ভাষা একটাই, আমাদের ভবিষ্যৎ একটাই।’
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।



