

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এক মাসও পার হয়নি, এর মধ্যেই আবার কনসার্টের আয়োজন! ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগকে ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ বলে মন্তব্য করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটির দাবি, এর আগে কনসার্টকে কেন্দ্র করে ৩০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরও ফের একই ধরনের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে কনসার্ট বন্ধের দাবিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।
স্মারকলিপিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বলেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-উলামা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমৃদ্ধ জনপদ। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। এর আগে কনসার্টকে কেন্দ্র করে ৩০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এক মাসও না যেতেই আবার কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘৮-৯ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। তখন নাচ-গানের মধ্যে এক মেয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যে কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়েছিল, সে ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।’
তবে কনসার্ট আয়োজনের বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হক।
তিনি বলেন, ‘তারা এমপি ও প্রশাসকের কাছে গেছেন, এ বিষয়ে আমি অফিসিয়ালি অবগত নই। তারা আমাদের কাছে আসেননি। আমাদের অবগত করলে এবং পরামর্শ দিলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা সেভাবে কনসার্ট নয়, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। আমাদের তিনটি কর্মসূচি রয়েছে, নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ।’
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এসব কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানো নিয়ে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা পরদিন (১৯ আগস্ট) তাদের পরীক্ষা আছে এবং উচ্চ শব্দে গান বাজানোর ফলে তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে সাউন্ড কমাতে বলেন। এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ সদস্যরা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় কয়েজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনীও বন্ধ করা হয়।



