

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঘুমের মধ্যে বা হঠাৎ করে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে সাধারণ চোখে অপ্রত্যাশিত মনে হলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরবৃত্তীয় কারণ। হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের মারাত্মক গোলযোগই মূলত এই ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর জন্য মূল ভূমিকা পালন করে।
হঠাৎ মৃত্যুর প্রধান কারণসমূহ
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট: হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদের মতে,
কার্ডিয়াক বা রেস্পিরেটরি ফেইলিউরের কারণে মুহূর্তেই জীবনহানি ঘটতে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে চিকিৎসা না পেলে বা সিপিআর (CPR) দেওয়া না হলে তা নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
রেস্পিরেটরি ফেইলিউর (শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা): শ্বাসযন্ত্র যখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে বা শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যথাযথভাবে বের করতে ব্যর্থ হয়, তখন এই জটিলতা তৈরি হয়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এমন রোগীদের প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেন।
পালমোনারি এম্বোলিজম (ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা): ফুসফুসের রক্তনালী ব্লক হয়ে যাওয়ার অবস্থাকে পালমোনারি এম্বোলিজম বলা হয়। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের পর এটি বিশ্বজুড়ে রক্তনালীর অন্যতম সাধারণ ও প্রাণঘাতী সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে নামাজে সিজদা করার সময় আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে এই অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়।
স্ট্রোক: মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে কোষ মারা গেলে স্ট্রোক হয়। এর মধ্যে হেমোরেজিক স্ট্রোক তাৎক্ষণিক মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর পঙ্গুত্ব থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
যে লক্ষণগুলোতে সতর্ক হতে হবে
বিভিন্ন জটিলতার ক্ষেত্রে শরীর আগে থেকেই কিছু সতর্কবার্তা পাঠায়:
হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক: বুকের মাঝ বরাবর তীব্র ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং বমি ভাব।
রেস্পিরেটরি ফেইলিউর: শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ঠোঁট বা আঙুলের ডগা নীল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, বিভ্রান্তি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
পালমোনারি এম্বোলিজম: হঠাৎ শ্বাস নিতে সমস্যা, বুক, বাহু, পিঠ, কাঁধ বা চোয়ালে তীব্র ব্যথা যা প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার সাথে বাড়ে।
স্ট্রোক: আচমকা শরীরের একদিক অবশ হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজ পড়ার মতো তীব্র মাথাব্যথা এবং শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।
প্রতিরোধ ও করণীয়
হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করা। ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ- যেকোনো শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রেই নিয়মগুলো মূলত এক:
জীবনধারার পরিবর্তন: সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা।
বর্জনীয় অভ্যাস: ধূমপান ও মদ্যপান পুরোপুরি পরিহার করা।
মানসিক স্বাস্থ্য: মানসিক চাপ বা আবেগ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
সময়ক্ষেপণ না করা: সমস্যা বড় হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে শরীরের যেকোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।




