শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী যারা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে আসন ভাগাভাগি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল হয় জামায়াতে ইসলামী। তবে, সামনে আসা দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘স্থানীয় নির্বাচন হবে স্থানীয়ভাবেই’ এই নীতি অবলম্বন করে ১৩টি সিটিতেই এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অর্থাৎ কোনো জোটবদ্ধ সমীকরণ নয়, বরং স্থানীয় জামায়াতের সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ১৩টি সিটি করপোরেশনেই দলটির একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রায় সবকটি সিটিতেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে দলটি। যার মধ্যে সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সব প্রার্থীর নাম একযোগে প্রকাশ করেনি দলটি।

১৩ সিটি কর্পোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী কারা?

ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে। দীর্ঘদিন মহানগর রাজনীতির হাল ধরা ও সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি সেলিম উদ্দিনকে কেন্দ্রীয় সংকেত পাওয়ার পরই মাঠপর্যায়ে তৎপর হতে দেখা গেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ কিংবা ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের প্রথম পছন্দ ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নেতাকে সামনে রেখে দক্ষিণ সিটিতে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিবিরের দায়িত্ব শেষ করে জামায়াতের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনিই হচ্ছেন দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের মূল মুখ।

যদিও সাদিক কায়েমের প্রার্থিতা কিন্তু জোটের ভেতরের সমীকরণকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। কারণ, একই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এক সময়ের সহযোদ্ধা ও একই রাজনৈতিক বলয়ের দুই জনপ্রিয় তরুণ মুখের মুখোমুখি লড়াই স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি’র সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয় হতে পারে।

চট্টগ্রাম ও বরিশাল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক কাউন্সিলর। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকা এবং সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার পরিচিতিকেই প্রার্থীর মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি।

অন্যদিকে, বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মনোনীত করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে। এর মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নগরী বরিশালে স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত মুখ এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সামনে রেখে নির্বাচনী কৌশল সাজিয়েছে জামায়াত।

খুলনায় মিয়া গোলাম পরওয়ার, রংপুরে আজম খান

খুলনা সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তাকে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী করার এই পরিকল্পনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই খুলনা মহানগরী ও আশপাশের অঞ্চলে রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মসূচিতে তার ধারাবাহিক অংশগ্রহণ সে পূর্বাভাষই দিচ্ছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের টিকিট পাচ্ছেন মহানগর আমির এটিএম আজম খান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জোটগত আসন সমঝোতার স্বার্থে তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। তবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছে জামায়াতে ইসলামী।

শিল্পনগরী গাজীপুরে জামায়াতের তরুণ প্রার্থী

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। গত ৬ মে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তার নাম ঘোষণা করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এর আগে গাজীপুর-৬ আসন থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় এলেও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় তখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী। আমরা নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা জোরদারের পাশাপাশি একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের যানজট, তীব্র জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য সংকটের টেকসই সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বার

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে মেয়র পদে মনোনীত করা হয়েছে। গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবদুল জব্বার বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তরুণদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়েই বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে তাকে মেয়র পদে সামনে আনছে দলটি।

রাজশাহীতে ডা. জাহাঙ্গীর

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মনোনীত করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পদ্মাপাড়ের এই নগরীতে সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বহুমুখী সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের পছন্দে তাকে প্রার্থী করা হয়েছে।

সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে অনানুষ্ঠানিক পছন্দ

কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার কথা জানানো হলেও সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করেনি জামায়াত। তবে, স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রার্থীদের নাম প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মোসলেহ উদ্দিনকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিলেট সিটিতে জেলা নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে।

নবগঠিত বগুড়া সিটিতে জামায়াতের বাজি সাবেক জিএস আব্দুল মালেক

২১টি ওয়ার্ড নিয়ে নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই সিটিতে হেভিওয়েট ও স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত মুখ হিসেবে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে মনোনীত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা দেশের সব স্তরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসন্ন বগুড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুস্পষ্ট।’

তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলে বগুড়া সিটিতে পুরো শক্তিতে লড়বে জামায়াত। মনোনীত প্রার্থী আ.খ.ম. আব্দুল মালেক বর্তমানে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এবং হাজরাদিঘী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি দারুস সুফ্ফা ট্রাস্ট ও আদর্শ স্কুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে তার দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতৃত্ব রয়েছে। ফলে সর্বস্তরের নাগরিক সেবা ও তরুণদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান পাথেয় করেই নির্বাচনে নামছে দলটি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank