

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গবেষণাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি)।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই আহ্বান জানান। বৈঠকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা এখন গভীরভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা বিবেচনা না করে উপাচার্য নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এর তীব্র সমালোচনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কৃষি বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ সুফল দেবে না। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে সরকারের ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগেরও সমালোচনা করেন।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নতুন আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, এতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বদলে অভিযুক্তদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি র্যাবের পরিবর্তে ‘এসআরবি’ গঠনকে কেবল খোলস পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেন বিচার বিভাগে দলীয় প্রভাবযুক্ত সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের সুযোগ থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেন, মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনের বিতর্ক থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি সামনে আনা হয়েছে।
সিআইপিজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হকের স্বাগত বক্তব্যের পর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের (সিএসপিএস) নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। সামষ্টিক সূচকের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোকেই অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
গোলটেবিল থেকে সরকারের আগামী দিনের কার্যক্রমের জন্য পাঁচটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ; মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার; যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জুলাই চার্টার ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রকাশ। সিআইপিজির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খুরশীদ আলমের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়।



