

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্বকের রং কালচে বা গাঢ় হয়ে যাওয়াকে সাধারণত অতিরিক্ত রোদ, প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বয়সজনিত পরিবর্তন বলে মনে করা হলেও, এর পেছনের কারণ সবসময় বাহ্যিক নয়। শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও ত্বকের স্বাভাবিক রঙে পরিবর্তন আসতে পারে।
অনেক সময় এই পরিবর্তনগুলো কোনো জটিল রোগের প্রাথমিক সংকেত হিসেবে দেখা দেয়, বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতা, ওজন হ্রাস, মাথা ঘোরা কিংবা রক্তে শর্করা বৃদ্ধির মতো উপসর্গ যুক্ত থাকে।
প্রধান হরমোনজনিত কারণসমূহ
অ্যাডিসন রোগ বা অ্যাড্রেনাল ইনসাফিসিয়েন্সি
কিডনির ওপরে অবস্থিত অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে পর্যাপ্ত কর্টিসল হরমোন উৎপাদনে ব্যর্থ হলে অ্যাডিসন রোগ দেখা দিতে পারে। কর্টিসলের ঘাটতি পূরণে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এসিটিএইচ (ACTH) হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা মেলানিনের উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে কালচে করে তোলে।
হাতের তালুর ভাঁজ, আঙুলের গাঁট, কনুই, হাঁটু, ঠোঁট, মাড়ি বা পুরোনো ক্ষতের স্থানে এই কালচে ভাব বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন হ্রাস, বমি ভাব এবং কম রক্তচাপের মতো লক্ষণ থাকতে পারে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানস
শরীরে ইনসুলিন উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তা সঠিকভাবে কাজ না করলে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির ফলে ত্বকের কোষে পরিবর্তন আসে। এর ফলে ঘাড়, বগল, কুঁচকি বা শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে ত্বক কালচে, মোটা ও মখমলের মতো হয়ে যায়, যাকে অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানস বলা হয়।
স্থূলতা, প্রি-ডায়াবেটিস, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে অল্প বয়সে ঘাড় হঠাৎ কালো হতে শুরু করলে শুধু প্রসাধনীর ওপর নির্ভর না করে রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন করা জরুরি।
কুশিং সিনড্রোম
দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোনের উপস্থিতি কুশিং সিনড্রোমের কারণ হতে পারে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘসময় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করলেও এ ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে।
এতে মুখ গোল হয়ে যাওয়া, পেটে চর্বি জমা, হাত-পা তুলনামূলক সরু হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ত্বকে বেগুনি বা লালচে দাগের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ত্বক গাঢ় হতে পারে।
থাইরয়েড ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যা
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী লিভার বা কিডনি রোগ এবং বিভিন্ন ওষুধের প্রভাবেও ত্বকের গঠন, আর্দ্রতা ও রঙে পরিবর্তন আসতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
ত্বকের রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে নিচের উপসর্গগুলোর যেকোনো একটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:
প্রতিকার ও চিকিৎসা
ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে কেবল ফরসা করার ক্রিম ব্যবহার করলে মূল সমস্যার সমাধান হয় না; বরং সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাডিসন রোগ হলে হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন, এবং অন্যান্য হরমোনজনিত বা বিপাকীয় সমস্যার ক্ষেত্রে কারণভিত্তিক সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
ত্বকের রঙের পরিবর্তন অনেক সময় বাহ্যিক রূপের চেয়েও শরীরের ভেতরে চলতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সংকেত দেয়, তাই এটিকে অবহেলা না করে সচেতন হওয়া উচিত।




