

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, তার ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাটি তার জীবনের অন্যতম এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল। উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং এর পর তার মেয়ের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে একা থাকার সময় ছোট মেয়েটির সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে ছাগলটির সঙ্গে মেয়ের গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। প্রতিদিন মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার সময় ছাগলটি তার ফেরার অপেক্ষায় থাকত। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটিও ছাগলটির সঙ্গে খেলত।
এমনকি মেয়ের মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারেও ছাগলটির ছবি ছিল বলে জানান আসিফ নজরুল। মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটিকে গলা জড়িয়ে ধরে থাকা নিজের একটি ছবি ওয়ালপেপারে রেখেছিল শিশুটি।
ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পায় বলে জানান তিনি। কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে বমি করে ফেলে শিশুটি। এরপর টানা প্রায় দেড় দিন কিছু না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
‘ছাগলটি পরে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছিল’ এই তথ্য এখনো মেয়েকে জানানো হয়নি বলেও জানান আসিফ নজরুল। মেয়েকে বলা হয়েছে, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। সত্যিটা জানলে শিশুটি আরও বেশি ভেঙে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ছাগলটি হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর হিসেবে বর্ণনা করেন আসিফ নজরুল। তার দাবি, প্রথমে ভোঁতা বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি জবাই করা হয়। ঘটনাটিকে তিনি ‘পিশাচসুলভ’ আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছাত্রনেতারা রাজনৈতিক শত্রুতা বা প্রতিবাদস্বরূপ ছাগলটি চুরি করে খেয়ে ফেলেছে—এমন ধারণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নাহিদ, আসিফ মাহমুদ, আখতার হোসেন ও সারজিস আলমের সঙ্গে তার শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সরকার গঠনের পর নাহিদরা তাদের প্রথম প্রোগ্রামে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং পরবর্তীতেও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। যারা বাইরে থেকে এসে বা না জেনে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি জানান যে পুরো ঘটনাটি নেহাত মজা করার ছলেই করা হয়েছিল, যার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র ছিল না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ছাগলটির কী পরিণতি হয়েছিল, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়। এবার টকশোতে সেই ঘটনার বিস্তারিত এবং মেয়ের ওপর এর মানসিক প্রভাবের কথা তুলে ধরলেন আসিফ নজরুল।



