

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। কয়লা সংকটে এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনের পর কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বাড়তে শুরু করলেও হঠাৎ ইউনিট বন্ধ হওয়ায় সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়েছে। এর প্রভাব হিসেবে দেশে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। কয়লা সরবরাহে সংকটের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক পর্যায়ে আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছিল। তবে রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন নেমে আসে ৭৩২ মেগাওয়াটে। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বাড়ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার সকালেও আদানির কেন্দ্র থেকে প্রায় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। সকাল ৮টায় ৭৩৪ মেগাওয়াট, ৯টায় ৭৩৭ মেগাওয়াট, ১০টায় ৭২৪ মেগাওয়াট এবং ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সরবরাহ ছিল ৭৩২ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু করে উৎপাদন বাড়াতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে, আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগেই দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি ছিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। আদানির ইউনিটটি বন্ধ থাকায় শুক্রবার লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মাসের শেষ দিকে আদানির কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছিল। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার সময় তা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য বলছে, দেশে পিডিবির গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানিচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।



