শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সড়কের পাশে ময়লা দেখে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

দুই মাসে ময়লার ভাগাড় বদলে গেল দৃষ্টিনন্দন বাগানে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকা। অনেক বছর ধরে এই এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলা হতো ময়লা-আবর্জনা। গত ৭ জুলাই ওই সড়ক হয়ে মানিকগঞ্জ যাওয়ার পথে ময়লার স্তূপ নজরে পড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের দুই মাস না যেতেই বর্জ্য পরিষ্কার করে সেই জায়গাকে সবুজ বাগানে পরিণত করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

নির্দেশের পর ১৫ জুলাই থেকে শুরু হয় ময়লা সরানোর কাজ। একে একে সরানো হয় প্রায় এক হাজার ট্রাক বর্জ্য। আর সেই আবর্জনার জায়গাতেই এখন প্রায় চার কিলোমিটারজুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজের বাগান। সুপারি, নিম, তাল আর নানা ফুলগাছ, এখানে সব মিলিয়ে লাগানো হয়েছে প্রায় চার হাজার গাছ। শুধু গাছ লাগিয়েই থেমে থাকেনি প্রশাসন। বাগান রক্ষায় দেওয়া হয়েছে শক্ত বেড়া, করা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। রাতের সৌন্দর্য বাড়াতে বসানো হচ্ছে আলোকসজ্জা।

এই বাগানের আরেক চমক ক্লিন এনার্জি। বাগানের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের জোগান দিতে বসানো হয়েছে উইন্ড টারবাইন ও সোলার সিস্টেম। প্রশাসনের দাবি, এখান থেকে উৎপাদন হবে ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। যা দিয়ে বাগানের চাহিদা মিটিয়ে করা যাবে অন্য কাজও।

রাস্তার অপর প্রান্তে প্রধান সড়কের পাশেই রয়েছে সাভার পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন। যার ময়লা চলে আসে প্রধান সড়কে। দুগন্ধে ভুগতে হয় মহাসড়কের যাত্রীদের। তাই সেই ডাম্পিং স্টেশনটিকেও টিনের বেড়ায় ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশে লাগানো হয়েছে গাছ। মাত্র ২ কোটি টাকা বাজেটে এই কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এখান থেকে প্রায় ১ হাজার ট্রাক ময়লা সরিয়েছি। তারপর তিন স্তরে মাটি ফেলে জায়গাটাকে গাছ লাগানোর উপযুক্ত করেছি। যেহেতু এটা মহাসড়কের পাশে তাই ঝোঁপঝাড় হতে পারে এমন গাছ লাগাইনি। কারণ ঝোঁপঝাড় হলে ছিনতাইকারীদের আশ্রয়ের জায়গা হয়ে যাবে। তাছাড়া, ঢালপালাযুক্ত গাছ লাগালে ঝড় বৃষ্টিতে সড়কে পড়তে পারে। এজন্য আমরা সুপারি ও তাল গাছকে প্রাধান্য দিয়েছি। লেকপাড়ে কিছু নীম গাছ লাগিয়েছি। এছাড়া সৌন্দর্যের জন্য কিছু ফুলের গাছও লাগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এই বাগানটি সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য তিনজনকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য একটি ঘরও নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে গাছে পানি দেওয়া, লাইটিংসহ রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে সেটাও গ্রিডলাইন থেকে নেওয়া হবে না। এখানে লাগানো সোলার ও উইন্ড টারবাইন থেকে তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সেটা দিয়ে এখানকার প্রয়োজন সামলে অন্য কিছুও করা যাবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রথমে শুধু বনায়নের জন্য ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিলাম। পরে প্রতিমন্ত্রী আরও কিছু কাজ বাড়িয়ে দেন, ফেন্সিং করতে বলেন। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকায় এই বাগানকে একটি টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন বাগানে রূপ দেওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী। এখন যেন ওই এলাকায় সড়কের পাশে কেউ ময়লা না ফেলে সে বিষয়েও আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলার সঙ্গে সঙ্গে আমরা হিসাব করে দেখি এই জায়গাটা সিটি করপোরেশনেও পড়েনি সাভার পৌরসভায়ও পড়েনি। তাই আমি জেলা প্রশাসনকে নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করি। তারা খুব অল্প সময়ে জায়গাটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছে। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়ে সেখানে একটি বৃক্ষ রোপন করবেন।

বাগানটি খুব শিগগিরই দৃষ্টিনন্দন স্থান হিসেবে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank