শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এরকম এতিম দশায় ওপেন হইলো কেন’- জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে ফারুকী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত
expand
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ জনবল ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি ছাড়াই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার মতে, জাদুঘরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা যথাযথ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা বিস্ময়কর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পোস্টে জুলাই জাদুঘর নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘কোনো রকম স্টাফ না দিয়ে, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল না করে এভাবে মিউজিয়ামটা কোন বিবেচনায় খোলা হইলো এটা আমার কাছে বিস্ময়কর লাগছে।’

জুলাই নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনুপ্রাণিত করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই জাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আছে, অনেক ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট আছে। এভাবে যদি মিউজিয়াম একসেস দেওয়া হয় তাহলে বহু জিনিস নষ্ট হয়ে যাবে।’

তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ‘এমন অনেক জিনিস আছে যেটা একবার নষ্ট হলে আর পাওয়া যাবে না’।

একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আর যে ভিজিটর এইভাবে দেখতে বাধ‍্য হন, উনি মিউজিয়ামের প্রপার এক্সপেরিয়েন্স কীভাবে পাবেন?’ এ ধরনের পরিস্থিতি দর্শনার্থীদের জন্যও এক ধরনের শাস্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই বিষয়ে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফারুকী বলেন, ‘এই পাঁচ মাস কি পর্যাপ্ত ছিল না মিউজিয়ামের অপারেশনাল দিক ঠিক করার? ইটস রিয়ালি হার্টব্রেকিং।’ তিনি বলেন, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জুলাই জাদুঘরকে যথাযথভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন।

‘এই জাদুঘর কেপিআই ওয়ানভুক্ত ইনস্টলেশন’- জানিয়ে এ চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এরকম সেনসিটিভ ইনস্টলেশন এরকম এতিম দশায় ওপেন করা হইলো কেন?’ তিনি মনে করেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সত‍্যিকারের উদ্যোগী হলে এতদিনে প্রপারভাবেই ওপেন করা যাইত।’

‘দরকার হইলে সাময়িক বন্ধ রাখেন’ উল্লেখ করে ফারুকী আরও বলেন, ‘তারপর প্রপার স্টাফিং, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল করে চালু করেন।’ ফেসবুক পোস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গতকাল ৬ আগস্ট সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে দৈনিক নির্ধারিত ৯০০টি টিকিট অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক দর্শনার্থীকে প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন