শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত ইবির ‘জুলাই ৩৬’ হলে মেয়েদের ভিডিও কলে কথা বলা নিষিদ্ধ

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেয়েদের আবাসিক 'জুলাই ৩৬' হলের কক্ষে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে কথা বলা নিষিদ্ধ করে শিগগির নোটিশ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে ওই হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে একাধিক সহপাঠীর আপত্তিকর ও অশালীন ছবি তুলে লন্ডন প্রবাসী বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠলে হল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, ১০ জনেরও অধিক ছাত্রীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই হলে নতুন এই বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেন প্রভোস্ট।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হল প্রভোস্ট বলেন, “হলের ভেতর যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আমরা হল বডি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আজকের মধ্যেই একটা নোটিশ দিয়ে দিচ্ছি যে, ভিডিও কল করে কিংবা স্মার্ট ফোনে রুমের ভেতরে কথা বলা যাবে না। যদি কথা বলতে হয়, তার রুমের বারান্দায় আসতে হবে অথবা বাইরে চলে আসতে হবে। বারান্দা ব্যতিরেকে রুমের ভেতর ভিডিও কল দেওয়া যাবে না। রুমের ভেতর ভিডিও কল দেওয়ার মতো কিছু প্রমাণিত হলে আমরা তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করব।”

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার সকালে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট সাতটি অভিযোগ সংগ্রহ করেন হল প্রভোস্ট। এরপর হলবডি ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ছাত্রীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা আগামী ৯ আগস্ট অফিস সময়ের মধ্যে প্রভোস্ট বরাবর লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য হলের সব আবাসিক ছাত্রীকে অবহিত করা হয়েছে পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে।

ঘটনা তদন্তে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে আহ্বায়ক, অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে সদস্যসচিব ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার বলেন, “অভিযুক্তের ফোন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে মেয়েদের যে অভিযোগ, তার সত্যতা আমার পেয়েছি। এমন কিছু ছবি যেগুলো আমাকে দেখানো হয়েছে সেগুলো আপনাদেরকে দেখানোর মত নয়। নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন