

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের ১০টি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে সরকারের যৌথ তদন্ত দল। এসব অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের তদন্তের আওতায় থাকা ১০টি শিল্পগোষ্ঠী হলো— এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট।
শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, এসব গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন ও সম্পদও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
জানা গেছে, তদন্তে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মূল অনুসন্ধান পরিচালনা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আইনি সহায়তা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একটি যৌথ তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করেছে এবং প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। এখন আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে দেওয়ানি মামলা করা হবে।
তদন্তে প্রতিটি শিল্পগোষ্ঠীকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসরণ করে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, এসব শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা অর্জন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কথা গত ২ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএফআইইউকে চিঠির মাধ্যমে জানায়। পরে ৬ জানুয়ারি যৌথ তদন্তের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক ঋণ, ঋণের ব্যবহার, অর্থের প্রবাহ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি মাসরুর আরেফিন বলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশাবাদী, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সূত্র: আগামীর সময়
