

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী রয়েছেন।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত ১৫০ কর্মকর্তাকে এসব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুবিধাভোগীদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত, চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত ও অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত।
সরকার বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবেদন, তিন বাহিনীর সদর দপ্তরের মতামত এবং চলতি বছরের মে মাসে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাঁদের বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসরে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত চাকরি বহাল ধরে স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাপ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্যতা পাবেন। কয়েকজন কর্মকর্তার জন্য অতিরিক্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কারও জন্য ৩০ লাখ, কারও জন্য ৫০ লাখ এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত এককালীন প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যোগ্যতা ও বয়স বিবেচনায় সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুযোগ এবং কিছু ক্ষেত্রে প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী। তাঁর ২০০৯ সালের বাধ্যতামূলক অবসর সংশোধন করে ২০১৩ সালে স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। ফলে ওই সময়ের জন্য তিনি মেজর জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
তালিকায় থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বাধ্যতামূলক অবসর সংশোধন করে ২০১২ সালে স্বাভাবিক অবসর কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ের আর্থিক সুবিধা ও বকেয়া প্রাপ্যতা পাবেন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীর ক্ষেত্রেও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁকে পর্যায়ক্রমে মেজর জেনারেল ও পরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দেখিয়ে অবসর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে ১ কোটি টাকা পাবেন। বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগও তাঁর জন্য রাখা হয়েছে।

