

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর ম্যাচের নিষ্পত্তি এলো একেবারে শেষ সময়ে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে টরন্টোয় নকআউট ম্যাচটিতে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে পর্তুগিজরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে পর্তুগাল কিছুটা বেশি দাপট দেখায়। তবে প্রথমার্ধে আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। একাধিকবার খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়।
পর্তুগালের আক্রমণভাগে রাফায়েল লিয়াওয়ের গতি এবং ব্রুনো ফার্নান্দেজের চেষ্টা নজর কাড়ে। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচও নিজেদের দলের পারফরম্যান্সে তেমন প্রভাব রাখতে পারেননি। চতুর্থ মিনিটেই রাফায়েল লিয়াওয়ের দুর্দান্ত দৌড়ে শুরু হয় পর্তুগালের আক্রমণ। তার তৈরি করা সুযোগ থেকে পরপর দুটি শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে দুইবারই দারুণ নৈপুণ্য দেখান ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ, যিনি পর্তুগালকে গোল থেকে বঞ্চিত করেন। সব মিলিয়ে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের লড়াই। বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে দুদলই। ৫৩তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত পাস বক্সের ভেতর দিয়ে গিয়ে পৌঁছে যায় ইভান পেরিসিচের কাছে। অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার কোনো ভুল না করে বাঁ পায়ের দারুণ শটে বল পাঠান জালে। এই গোলের ফলে বিশ্বকাপে টিকে থাকার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে রোনালদোর পর্তুগাল। কিছুক্ষণ পরেই সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয় পর্তুগিজদের জন্য। ৬০তম মিনিটে গোলের পর উদ্যাপনে ভেসে যেতে যাচ্ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের সংকেত দেন লাইন্সম্যান, আর বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। ফলে উদ্যাপন না করেই হতাশায় ফিরতে হয় পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
তবে এর ৮ মিনিট পরেই গোল উদ্যাপন করতে পেরেছেন সিআরসেভেন। পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরে পর্তুগাল। চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় দায়িত্বটা নিজের কাঁধে নেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতেই স্পট কিকে এগিয়ে যান তিনি। এরপর একদম মাঝ বরাবর নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান পর্তুগিজ মহাতারকা। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার নিশ্চিত গোল বাঁচান দিয়োগো কস্তা। মাতেও কোভাচিচের প্রথম শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি শটটিও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক। এরপর রোনালদোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ম্যাচের ৯৪তম মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের। আর শেষ মুহূর্তে অফসাইডে গোল বাতিল হওয়ায় বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ ক্রোয়েশিয়ার।


