

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার রোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
নতুন আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করা হয়েছে। সরকার বলছে, দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো আইনটি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া ও অনলাইন বেটিং মোকাবিলায় আর কার্যকর ছিল না।
আইনে অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বাজিকর (বুকমেকার), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ভিপিএন, প্রক্সি ও মিরর সাইটসহ ২৪টি বিষয়কে আইনি সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর অনলাইন বেটিং ও বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড করা যাবে।
এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত প্রয়োজনে দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলায় অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন।
নতুন আইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ভিপিএন বা প্রক্সি ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম বা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া জুয়ার অর্থে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রয়োজন হলে জুয়া ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ ও চ্যানেলও ব্লক বা নিষিদ্ধ করতে পারবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে আধুনিক ও সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তুলতেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের আশা, আইনটি কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
