

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। এ দুই ধরনের যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের যে পরিকল্পনা ছিল, তা থেকে সরে এসেছে সরকার। ফলে আগামী অর্থবছরে এসব যানবাহনের মালিকদের নতুন কোনো কর দিতে হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে—এমন বিবেচনায় সরকার শেষ পর্যন্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল এখন অনেক মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর নেওয়ার কথা ছিল। একইভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অবস্থানভেদে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাবও আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
কর আরোপের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবহারকারীরা যুক্তি দেন, মোটরসাইকেল বর্তমানে শুধু ব্যক্তিগত বাহন নয়; বরং কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং রাইড-শেয়ারিং সেবার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। তাদের মতে, নিবন্ধন ফি, সড়ক কর, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়।
যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সুযোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনার চেয়ে জনস্বার্থের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রস্তাবিত কর পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। তবে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের মালিকদের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্য না থাকলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সারা দেশে প্রায় ৫০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর আরোপ করা হলে মোটরসাইকেলের বাজার, উৎপাদন ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। নতুন সিদ্ধান্তে ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তারাও স্বস্তি পেয়েছেন।
