

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল-শিবিরের নেতারা বিভিন্নভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সহায়তা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার।
শনিবার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে মাহিন বলেন, ‘২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাদের কথা হতো। ছাত্রশিবিরের এসএম ফরহাদ ও সাদিক কায়েমের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল।’
ছাত্রশিবিরের নেতারা বিভিন্ন ছদ্মনামে যোগাযোগ করতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা সালমান, সাইমুম প্রভৃতি ছদ্মনামে যোগাযোগ করত। মূলত ওই পাশে কে আছে, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানতে পারিনি।’
হাসপাতাল থেকে বের হতে অ্যাম্বুলেন্স
আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই উত্তরার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘেরাওয়ের মুখে পড়ার ঘটনাও তুলে ধরেন মাহিন।
তিনি বলেন, ওই দিন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় হাসপাতালটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির ও মহানগর ছাত্রশিবির যৌথভাবে তাঁদের সহায়তা করে।
মাহিন বলেন, ‘তারা একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়। আমি রোগী সাজি এবং রিফাত ও হান্নান মাসউদ আমার স্বজন সেজে কোনোমতে ওই জায়গা ত্যাগ করি।’
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরও তাদের পেছনে গাড়ির বহর নিয়ে ধাওয়া করা হয়েছিল। পরে দূতাবাসের কাছে পৌঁছালে ধাওয়া বন্ধ করা হয়।
ছাত্রদলের নেতারাও খোঁজ রাখতেন
আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানান মাহিন।
তিনি বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাঁদের কথা হতো। এ ছাড়া ছাত্রদলের রাকিব ও নাছির তাঁদের নিয়মিত খোঁজ রাখতেন।
মাহিন বলেন, ‘ছাত্রদলের রাকিব ভাই আর নাছির ভাই সবসময়ই আমাদের খোঁজ রেখেছেন। কিন্তু স্থান গোপন থাকায় সরাসরি কোনো সহায়তা করা সম্ভব ছিল না।’
বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন বিএনপির নেতা
হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির শেরপুর-২ আসনের বর্তমান এমপি ফাহিম চৌধুরী তাঁদের বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন বলেও জানান মাহিন।
আন্দোলনের সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার বিষয়ে মাহিনের এই বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের সময়কার নেপথ্যের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।