

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্টে শেখ হাসিনার অন্তর্বাস প্রকাশ্যে প্রদর্শন করাকে অনুচিত ও গর্হিত কাজ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘৮ আগস্ট একজন পতিত প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস প্রদর্শন খুবই অনুচিত ও গর্হিত কাজ। এদিনের পরও জুলাইযোদ্ধাদের নামে বহু জঘন্য কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এজন্য জুলাই-ই শেষ হয়ে গেছে?’
শনিবার (০৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, কোনো ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত বা গর্হিত কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো আন্দোলন বা ঐতিহাসিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়েও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ ছিল। তবে ব্যক্তিবিশেষের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে অস্বীকার করা হয়নি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের ব্যক্তিবিশেষের এসব অপকর্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, এটা কি আমরা বলেছিলাম? বলিনি।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কথায় কথায় প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মরিয়া প্রচেষ্টা এখন দেখি। মুক্তিযুদ্ধ আর জুলাইকে মুখোমুখি করারও একটা হীন চেষ্টা থাকে কারও কারও মধ্যে। এসব খুবই অন্যায়।’
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল বীরগাঁথা। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’
আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণের একটি আত্মত্যাগী লড়াই।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মানে যদি মনে করেন, শেখ পরিবার আর আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতার স্বাধীনতা, তাহলে আপনি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই এ দুটোরই বিরোধী। আবার আপনি যদি মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ধান্ধাবাজ বা মূর্খ ছাড়া অন্য কিছু নন।’