

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিপুল আর্থিক চাপ সামাল দিতে এটি একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয়ের চাপ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন ধাপে পে-স্কেল কার্যকরের কৌশল নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের সার্বিক কাঠামো, সম্ভাব্য ব্যয় এবং রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতাতেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সরকারের ধারণা, তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে না এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন নতুন পে-স্কেল নিয়ে সুপারিশ জমা দেয়। সেই সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হলেও সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
