

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি গাজীপুরে আলোচিত পাঁচ হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার হতে পারে বলে ধারণা করছে গাজীপুর জেলা পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মুন্সীগঞ্জ নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও গাজীপুর জেলা পুলিশের সদস্যরা এসে এটি ফোরকান মোল্লার মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। বর্তমানে মরদেহটি গাজীপুরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পরবর্তী সময়ে গাজীপুরের পাঁচ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই আব্দুল জব্বার এবং কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান মরদেহটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। মরদেহের সুরতহাল চলছে। নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. ইলিয়াস আরো জানান, মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মরদেহ অর্ধগলিত হওয়ায় তা সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, ডুবুরিদল এবং কাপাসিয়া থানার পুলিশ যৌথভাবে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সেটি কাপাসিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাঁচ খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। ফুটেজ দেখে পরিবারের সদস্যরা এবং মামলার বাদী ধারণা করছেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান হতে পারেন। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এর আগে, গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন কন্যা—মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
