

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তৈরি বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট আর প্রাণবন্ত হাসিতে যিনি প্রতিনিয়ত লাখো মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেন, সেই কারিনা কায়সার আর নেই। লিভারের জটিলতায় ভুগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার।
তাঁর এই আকস্মিক ও অকালমৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মী, তারকা ও ভক্ত-অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে এখন কেবলই কারিনাকে হারানোর শোক ও স্মৃতিচারণা।
কারিনার মৃত্যুর পর তাঁর একটি সাদাকালো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নাট্যকার ও সাংবাদিক রুম্মান রশীদ খান লিখেছেন এক আবেগঘন স্মৃতি। ছবিটি তোলার পর কারিনাকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত কারিনা রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘ওয়াও! কী জোস! আমাকে তো নায়িকা নায়িকা লাগছে। আমি মারা যাওয়ার পর এই ছবিটা দিয়েন!’
কারিনার সেই কথার সূত্র ধরেই রুম্মান লিখেছেন, ‘কারিনা যেখানেই থাকেন, ভালো থাকবেন!’
এদিকে প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে স্তব্ধ শোবিজ অঙ্গন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিন আবসার লিখেছেন, ‘তুমি মোমবাতিতে ভরা একটা ঘরে ঝাড়বাতি ছিলে, কারিনা। আল্লাহ হাফেজ, আবার দেখা হবে।’
অন্যদিকে কারিনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডানা লিখেছেন, ‘এমন একটি দিনও মনে পড়ে না, যেদিন আমাদের কথা হয়নি। কে আপন আর কে পর—সেই হিসাব না করেই সে পৃথিবীর সবাইকে আগলে রাখত।’
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোটভাই কারিনার বিদেহী আত্মার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। নির্মাতা রেদোয়ান রনি স্মৃতিকাতর হয়ে লিখেছেন, ‘জটিল জীবনকে কীভাবে হাসিখুশি দিয়ে সহজ করে ফেলা যায়, সেই তালিম নিতাম আমি ওর কাছ থেকে।’
সংগীতশিল্পী তাশরিফ খান লিখেছেন, ‘কাছের মানুষদের যত্ন নিয়েন। কার সাথে কার কখন শেষ দেখা হয় কেউ বলতে পারবে না!’ এ ছাড়া অভিনেত্রী পূজা চেরী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাবা খান, আলতাফ উদ্দীন আকরমি ও কিটো ভাইসহ অনেকেই কারিনার অকালবিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও তৈরিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না কারিনা কায়সার; অভিনয় এবং নাটকের চিত্রনাট্য লিখনেও তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিভার সংক্রান্ত জটিলতা গুরুতর রূপ নিলে সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কারিনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে লিভার প্রতিস্থাপনের সব প্রস্তুতি চললেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিরতরে বিদায় নেন এই তরুণ প্রতিভা।
