মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিরতার উপকারিতা কী, কীভাবে খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand

তিক্ত স্বাদের কারণে অনেকেই চিরতা খেতে পছন্দ করেন না। তবে উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ উপাদান হিসেবে চিরতার ব্যবহার রয়েছে। হজমের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা কিংবা শরীরের নানা ধরনের অস্বস্তিতে অনেকে ঐতিহ্যগতভাবে চিরতা ব্যবহার করে থাকেন।

তবে চিরতা কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। এর সম্ভাব্য উপকার পেতে হলে পরিমিত পরিমাণে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিরতার সম্ভাব্য উপকারিতা

হজমে সহায়তা করতে পারে: চিরতার তিক্ত উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকেই বদহজম, পেট ভার লাগা বা ক্ষুধামন্দার ক্ষেত্রে চিরতা ব্যবহার করেন। তবে এসব সমস্যার মূল কারণ জানা জরুরি।

ক্ষুধামন্দায় উপকারী হতে পারে: চিরতার তিক্ত স্বাদ ক্ষুধা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষুধা না লাগলে শুধু চিরতার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ন্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য: চিরতায় বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ জৈব সক্রিয় উপাদান রয়েছে। এসব উপাদানের কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এসব বৈশিষ্ট্য মানেই চিরতা নির্দিষ্ট কোনো রোগ সারাতে পারে—এমনটা বলা যায় না।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা: চিরতার কিছু উপাদান রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে চিরতা ব্যবহার করা উচিত নয়। যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

ত্বকের সমস্যায় ঐতিহ্যগত ব্যবহার: ভেষজ চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যায় চিরতা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে ত্বকে সরাসরি চিরতা ব্যবহার করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। অ্যালার্জি বা ত্বকের জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

জ্বরের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যবহার: জ্বরের সময় উপমহাদেশের লোকজ ও ভেষজ চিকিৎসায় চিরতার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। কিন্তু জ্বর হলে এর কারণ জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড বা অন্য কোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিরতাকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নেওয়া যাবে না।

চিরতা কীভাবে খাবেন?

চিরতা সাধারণত শুকনো অবস্থায় পানিতে ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পান করা হয়। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ উপযোগী নয়। তাই নিয়মিত সেবনের আগে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

চিরতা ভেজানো পানি

শুকনো চিরতা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন পানি ছেঁকে পান করার প্রচলন রয়েছে। এর স্বাদ খুব তিক্ত হওয়ায় অনেকেই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করেন।

চিরতা সেদ্ধ পানি

পানিতে চিরতা দিয়ে অল্প সময় সেদ্ধ করে ঠান্ডা করার পর ছেঁকে পান করা যায়। অতিরিক্ত ঘন করে বা বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।

চিরতার গুঁড়া

শুকনো চিরতা গুঁড়া করে ব্যবহার করা যায়। তবে সঠিক মাত্রা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর। তাই নির্দিষ্ট মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভালো।

কারা চিরতা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

  • গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিরতা খাওয়া উচিত নয়।
  • স্তন্যদানকারী মায়েদেরও ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে।
  • যাদের রক্তচাপ কম থাকে, তাদের অতিরিক্ত চিরতা এড়িয়ে চলা ভালো।
  • নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে চিরতা ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জানানো উচিত।
  • অতিরিক্ত খেলে বমিভাব, পেটের অস্বস্তি বা ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা হতে পারে।

চিরতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

চিরতার কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা থাকলেও এটিকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, জ্বর, লিভার বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বন্ধ করে চিরতা খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। শরীর সুস্থ রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিরতাকে চাইলে খাদ্যাভ্যাসের একটি ভেষজ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে পরিমিতি ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank