

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের প্রধান তিনটি কারণের একটি হলো সঙ্গীর নাক ডাকা। এছাড়া দম্পতিদের আলাদা বিছানায় ঘুমানোর অন্যতম বড় কারণও এটি।
গবেষণায় দেখা গেছে, সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে একজন মানুষের ঘুমের সময় গড়ে প্রায় ১ ঘণ্টা পর্যন্ত কমে যেতে পারে! নাক ডাকার প্রধান সাধারণ কারণ হলো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’।
ঘুমানোর পর নিজের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তাই নাক ডাকার জন্য সঙ্গীকে দোষ দেওয়া অনুচিত। তবে বিশেষ করে যারা অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ায় ভোগেন, তাদের জন্য সঙ্গীর নাক ডাকা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যদি আপনার সঙ্গীর নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, তবে সম্পর্কের অবনতি না ঘটিয়ে বা বিরক্ত হয়ে বিছানা আলাদা না করে কীভাবে নিজের ঘুম ঠিক রাখবেন, তার কয়েকটি উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:
১. হোয়াইট নয়েজ মেশিন (White Noise Machine)
এই যন্ত্রটি মূলত একধরনের ধারাবাহিক ও মৃদু শব্দ তৈরি করে, যা সঙ্গীর তীব্র নাক ডাকার শব্দকে আড়াল করে দেয়।
সুবিধা: শ্রবণশক্তি রক্ষা করে সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দে অভ্যস্ত হওয়ার চেয়ে এই যন্ত্র ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ।
সতর্কতা: অতিরিক্ত শব্দে বা সারারাত ধরে এই যন্ত্র চললে কানের বিশ্রাম ব্যাহত হতে পারে। তাই শব্দের মাত্রা সহনীয় রাখা জরুরি।
২. ইয়ারপ্লাগ (Earplugs)
ইয়ারপ্লাগ কানের ভেতরের ছিদ্র বন্ধ করে বাইরের যেকোনো শব্দ শোষণ করে নেয়।
নির্বাচন: এটি ফোম বা সিলিকনসহ বিভিন্ন উপাদানের হতে পারে। আপনার কানের আকার ও ত্বকের অ্যালার্জি বিবেচনা করে আরামদায়ক ইয়ারপ্লাগ বেছে নিন।
সতর্কতা: ইয়ারপ্লাগ পরে ঘুমালে জরুরি কোনো ডাক বা শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহারে কানে মোম বা ময়লা জমা, কান বন্ধ হয়ে থাকা বা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
৩. বিশেষ তরঙ্গের ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড (Sound Therapy)
শোবার ঘরে ছোট স্পিকার রেখে ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট তরঙ্গের শব্দ বা সুর বাজানো যেতে পারে।
শব্দের ধরন: শব্দের তীব্রতা বোঝাতে বিভিন্ন রঙের নাম (যেমন: পিঙ্ক নয়েজ, ব্রাউন নয়েজ, ব্লু নয়েজ) ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে গোলাপি রঙের শব্দ (Pink Noise) দ্রুত ও গভীর ঘুম আনতে বেশ কার্যকর। অন্যদিকে 'নীল রঙের শব্দ' বিরক্তিকর হতে পারে।
প্রাকৃতিক শব্দ: আপনি চাইলে সমুদ্রের ঢেউ, ঝরনার শব্দ কিংবা শান্ত ধ্রুপদি সংগীতও চালাতে পারেন।
৪. ‘ক্যাম্পিং আউট’ (Camping Out) পদ্ধতি
শিশুরা একা ঘুমাতে ভয় পেলে মা-বাবা যেমন তারা না ঘুমানো পর্যন্ত পাশে থাকেন এবং ঘুমিয়ে গেলে সরে আসেন—এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ক্যাম্পিং আউট’।
সঙ্গী যদি একা ঘুমাতে ভয় পান বা অস্বস্তি বোধ করেন, তবে তিনি না ঘুমানো পর্যন্ত পাশে থাকুন। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর আপনি আপনার সুবিধার জায়গায় গিয়ে ঘুমাতে পারেন।
পারিবারিক সচেতনতা ও দায়িত্ব
মানুষের আচরণ ও অভ্যাস ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। সঙ্গী ইচ্ছা করে নাক ডাকেন না, তাই বিরক্তি প্রকাশ করে তাঁর বিছানা আলাদা করে দেওয়া অমানবিক। জীবনসঙ্গী হিসেবে তার সমস্যা বোঝা এবং সহমর্মিতা দেখানো অত্যন্ত প্রয়োজন।
নাক ডাকার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করতে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।