রবিবার
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর কাশিতে কফ সিরাপ কতটা নিরাপদ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

শিশুর সর্দি-কাশি হলে দ্রুত আরাম দিতে অনেক অভিভাবক নিজেরাই কফ সিরাপ কিনে খাওয়ান। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে সব ধরনের কাশির ওষুধ নিরাপদ নয়। বয়স, ওজন ও কাশির কারণ বিবেচনা না করে ওষুধ দিলে উপকারের বদলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শিশুদের কফ সিরাপ কেন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে

বাজারে পাওয়া অনেক কাশির সিরাপে অ্যান্টিহিস্টামিন, ডিকনজেস্ট্যান্ট, এক্সপেক্টোরেন্টসহ বিভিন্ন উপাদান থাকে। এসব উপাদানের কার্যকারিতা সব ধরনের কাশিতে সমান নয়। আবার ভুল মাত্রায় ব্যবহার করলে শিশুর শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের কাশির ওষুধ শিশুকে দেওয়া উচিত নয়। শিশুর শরীরের ওষুধ শোষণ ও বিপাকের ধরন বড়দের চেয়ে আলাদা হওয়ায় সামান্য মাত্রার ভুলও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কী ধরনের সমস্যা হতে পারে

ভুল ওষুধ বা অতিরিক্ত মাত্রায় কফ সিরাপ খাওয়ালে শিশুর

  • অতিরিক্ত ঘুম বা ঝিমুনি
  • বমি
  • অস্থিরতা
  • মাথাব্যথা
  • হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • খিঁচুনি
  • শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া
  • দুর্বলতা

ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

কিছু দূষিত কাশির সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকল বা এ ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতির ঘটনাও বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে। এসব রাসায়নিক শিশুদের কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই ওষুধের মান ও উৎসের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স অনুযায়ী সতর্কতা

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে ওভার-দ্য-কাউন্টার কাশির ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে চার বছরের কম বয়সী শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কফ সিরাপ না দেওয়াই নিরাপদ। চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

শিশুর বয়স বাড়লেও কাশির ওষুধ দেওয়ার আগে সঠিক ওষুধ, উপাদান ও মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কাশি হলে ঘরেই করতে পারেন

সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে সব সময় ওষুধের প্রয়োজন হয় না। শিশুকে আরাম দিতে-

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিন
  • বয়স উপযোগী কুসুম গরম তরল পান করাতে পারেন
  • নাক বন্ধ থাকলে সাধারণ স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে
  • নাক পরিষ্কার ও শ্বাস নেওয়ার পথ স্বাভাবিক রাখুন
  • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন

এক বছরের বেশি বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সামান্য মধু কাশিতে আরাম দিতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কখনো মধু দেওয়া যাবে না।

কাশি সব সময় খারাপ নয়

কাশি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থা। শ্বাসনালিতে জমে থাকা শ্লেষ্মা, ধুলা বা জীবাণু বের করে দিতে কাশি ভূমিকা রাখে। তাই শুধু কাশি বন্ধ করার জন্য সব সময় ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হওয়া কাশির পেছনে ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া, টনসিলের সমস্যা, অ্যাজমা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো রোগ থাকতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন

শিশুর কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুক দেবে যাওয়া, ঠোঁট বা মুখ নীল হয়ে যাওয়া, খুব বেশি জ্বর, খেতে না পারা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, খিঁচুনি বা দ্রুত শারীরিক অবনতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুর কাশি হলেই ফার্মেসি থেকে নিজের মতো করে কফ সিরাপ কিনে খাওয়ানো ঠিক নয়। শিশুর বয়স, ওজন ও কাশির কারণ বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকই ওষুধ ও সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন