বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিভারের যত্নে গ্রিন টি কি আসলেই উপকারী?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আজকাল ব্যস্ত জীবনযাত্রা আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারসহ লিভারের নানাবিধ সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে।

লিভারকে সুরক্ষিত ও সুস্থ রাখতে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে গ্রিন টি দারুণ কার্যকরী। তবে সঠিক নিয়ম না জানলে এর কিছু ক্ষতিকর দিকও প্রকাশ পেতে পারে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক লিভারের যত্নে গ্রিন টি-র ভূমিকা, এর উপাদান এবং কিছু সতর্কতা সম্পর্কে।

গ্রিন টি-তে কী কী উপাদান রয়েছে?

গ্রিন টি-র মূল শক্তি হলো এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্যাটচিন। এছাড়া এতে নির্দিষ্ট পরিমাণে ক্যাফেইন ও শরীরের জন্য উপকারী বেশ কিছু খনিজ উপাদান থাকে।

লিভারের উপকারে গ্রিন টি-র ভূমিকা

টক্সিন বা ক্ষতিকর উপাদান দূর করে:

গ্রিন টি-তে থাকা 'ক্যাটচিন' শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর নোংরা ও টক্সিন বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে লিভারের কোষগুলো ভালো থাকে এবং লিভার সতেজভাবে কাজ করতে পারে।

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে:

আমাদের শরীরে চর্বি কীভাবে জমা হবে, তা লিভার নিজেই ঠিক করে। গ্রিন টি চর্বি হজম করার প্রক্রিয়াকে সহজ ও উন্নত করে। ফলে লিভারের ভেতরে বাড়তি চর্বি জমতে পারে না এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।

লিভারের এনজাইম নিয়ন্ত্রণে রাখে:

লিভার কতটা সুস্থ আছে তা বোঝার জন্য ডাক্তাররা রক্তে ALT এবং AST নামের দুটি এনজাইম পরীক্ষা করেন। লিভারে কোনো ক্ষতি বা ইনফেকশন হলে এগুলোর মাত্রা বেড়ে যায়। নিয়মিত গ্রিন টি খেলে এই এনজাইমগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে।

প্রদাহ ও ক্লান্তি কমায়:

লিভারের ভেতরের যেকোনো রকম জ্বালাপোড়া, প্রদাহ এবং কোষের ক্লান্তি কমিয়ে একে সুরক্ষিত রাখে গ্রিন টি।

অতিরিক্ত গ্রিন টি পানের ক্ষতিকর দিক

যেকোনো ভালো জিনিসই অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। গ্রিন টি-র ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

ঘুমের ব্যাঘাত ও মাথাব্যথা:

গ্রিন টি-তে ক্যাফেইন থাকে। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় এটি খেলে রাতে ঘুমের সমস্যা কিংবা মাথাব্যথা হতে পারে।

আয়রন শোষণে বাধা:

খাবারের ঠিক পরপরই গ্রিন টি খেলে তা শরীরকে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় আয়রন শুষে নিতে বাধা দেয়।

অনেকে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বাজার থেকে গ্রিন টি-র ক্যাপসুল বা কড়া সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরণের সাপ্লিমেন্ট খেলে লিভারের উপকারের চেয়ে উল্টো বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

লিভার সুস্থ রাখার অন্যান্য উপায়

লিভারকে পুরোপুরি সুস্থ রাখতে শুধু গ্রিন টি পানের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:

খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিন নিয়ম মেনে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার পরিমাণ অনেক কমাতে হবে।

শরীরচর্চা: প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় শরীরচর্চা বা হাঁটাহাঁটি করলে লিভারের চর্বি দ্রুত গলে যায়।

বর্জনীয় অভ্যাস: লিভার ভালো রাখার সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম প্রধান উপায় হলো মদ্যপানের অভ্যাস পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া।

প্রতিদিন নিয়ম মেনে ১-২ কাপ লিকুইড গ্রিন টি পান করা লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে লিভারের সুস্বাস্থ্যের জন্য এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য তালিকা ও সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখা জরুরি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন