শনিবার
২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুল পড়ে যাচ্ছে? সমাধান মিলবে এই ৬ খাবারে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আজকাল শুধু বয়সের কারণে নয়, বরং কম বয়সীদের মধ্যেও অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই দামি শ্যাম্পু, তেল বা অনলাইনের নানা পণ্য ব্যবহার করেন। কিন্তু শুধু বাইরের যত্নে সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের গোড়া শক্ত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে বাইরের যত্নের পাশাপাশি শরীরের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানো জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত কিছু খাবার খেলে শরীর প্রয়োজনীয় আয়রন, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়, যা চুলের অকাল ঝরে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।

চুলের যত্নে ৬টি জাদুকরী খাবার

১. . কমলালেবু (ভেতর থেকে আর্দ্রতা)

কমলালেবু ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে কোলাজেন তৈরি করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এছাড়া কমলালেবুর উচ্চ জলীয় অংশ শরীর ও মাথার ত্বককে হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখতে দারুণ কার্যকর।

২. বেরি জাতীয় ফল (অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস)

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরির মতো ফলগুলো ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ভিটামিন সি শরীরে 'কোলাজেন' তৈরি করে, যা চুলের গঠন শক্ত রাখে। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল থেকে সুরক্ষা দিয়ে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখে।

৩. পেঁপে (ত্বক ও চুলের সুরক্ষাকবচ)

সহজলভ্য ফল পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ফোলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর ভিটামিন এ মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক তেল বা 'সিবাম' তৈরিতে সাহায্য করে, যা চুলকে রুক্ষ হতে দেয় না। পাশাপাশি, পেঁপের বিশেষ এনজাইম মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বক পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখে।

৪ অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বককে শুষ্ক হওয়া থেকে বাঁচায় এবং আর্দ্র রাখে। এছাড়া এতে থাকা বায়োটিন, ভিটামিন সি এবং ই চুলের মূল উপাদান 'কেরাটিন' উৎপাদনে সাহায্য করে। এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের ফলিকলে পুষ্টি পৌঁছে দেয়।

ডিম: ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং বায়োটিন। চুলের মূল গঠন উপাদান 'কেরাটিন' তৈরিতে এই পুষ্টি উপাদানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পালং শাক: পালং শাকে রয়েছে আয়রন ও ফোলেট। আয়রনের অভাব হলে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, যা চুলের ফলিকলে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত করে এবং চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। তাই পালং শাক আয়রনের অভাব কমিয়ে চুল করে তোলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

শুধু এই খাবার খাওয়াই কি যথেষ্ট?

প্রতিদিন পরিমিত ফল খাওয়া চুল, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দারুণ উপকারী। তবে মনে রাখা জরুরি, শুধু ফল, শাক, ডিম খেলেই চুল পড়া অলৌকিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে না। চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:

সুষম খাবার: খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকতে হবে।

জীবনযাপন: প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

ভেতরের কারণ: চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।

চুলের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা প্রয়োজন। আর সমস্যা যদি অতিরিক্ত ও দীর্ঘদিনের হয়, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Croatia VS Ghana
Scheduled
28 Jun, 03:00 AM
VS
World Cup