

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রতিদিন গোসল করার অভ্যাসটি আসলে শারীরিক প্রয়োজনের চেয়ে একটি সামাজিক চুক্তি। আধুনিক সমাজে প্রতিদিন ঝরনা বা শাওয়ারের নিচে যাওয়াটা এক ধরণের নিয়মে দাঁড়িয়েছে, যা না করলে অনেকেই বাঁকা চোখে তাকান।
তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন পুরো শরীর ধোয়ার কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নেই; বরং এটি ত্বককে শুষ্ক করতে পারে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম নষ্ট করে দিতে পারে।
গত ১০০ বছরে বাথরুমে রানিং ওয়াটার ও শাওয়ারের সহজলভ্যতা এবং বিজ্ঞাপনের প্রচারণায় গোসল একটি বিনোদন ও মানসিক রূপান্তরের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমানে অনেকেই এই অভ্যাস থেকে সরে আসছেন।
কীভাবে কম গোসল করেও পরিচ্ছন্ন থাকবেন?
সামাজিক ট্যাবু ভেঙে ত্বকের সুরক্ষায় গোসল কমিয়ে আনার কিছু কার্যকর উপায়:
প্রয়োজন বুঝে গোসল: অভ্যাসের বশে প্রতিদিন গোসল না করে, শরীর নোংরা বা ঘর্মাক্ত হলে তবেই গোসল করুন।
প্রধান অঙ্গগুলোর যত্ন: প্রতিদিন পুরো শরীর সাবান দিয়ে না ধুয়ে কেবল বগল বা কুঁচকির মতো ঘামপ্রবণ অংশগুলো পরিষ্কার রাখুন।
হাত ধোয়ার গুরুত্ব: গোসল কমালেও রোগজীবাণু ছড়ানো রোধ করতে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
মানসিক রূপান্তর: কর্মব্যস্ত দিন শেষে ক্লান্তি দূর করতে গোসলের পরিবর্তে হালকা ব্যায়াম বা বই পড়ার মতো বিকল্প অভ্যাস বেছে নিন।
পরিশেষে, আমরা অনেকেই মূলত এই সামাজিক ভয়ে প্রতিদিন গোসল করি যাতে কেউ দুর্গন্ধের অভিযোগ না তুলতে পারে। তবে অতিরিক্ত পানির অপচয় রোধ ও ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য এই লোকদেখানো অভ্যাস কিছুটা কমিয়ে আনা মোটেও খারাপ সিদ্ধান্ত নয়।
