

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিজ্ঞান যখন কল্পবিজ্ঞানকে হার মানায়, তখন জন্ম নেয় ‘লিনলি হোপ’-এর মতো অলৌকিক গল্প। টেক্সাসের লুইস ভিলের এই কন্যাসন্তান পৃথিবীতে এসেছে একবার নয়, বরং দুবার। তবে এই অলৌকিকতার পেছনে রয়েছে এক মায়ের অদম্য সাহসিকতা এবং চিকিৎসকদের অবিশ্বাস্য মেলবন্ধন।
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু মার্গারেট হকিন্স বোমারের ১৬ সপ্তাহের গর্ভকালীন পরীক্ষায় ধরা পড়ে এক নির্মম সত্য। গর্ভস্থ লিনলির মেরুদণ্ডে বাসা বেঁধেছে ‘স্যাক্রোকক্সিজিয়াল টেরাটোমা’ নামের এক বিরল টিউমার। এটি প্রতি ৩০ থেকে ৭০ হাজার শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের হয়, যার শিকার মূলত মেয়েরাই বেশি।
টিউমারটি লিনলির শরীর থেকে রক্ত শুষে নিচ্ছিল, যা তাকে ঠেলে দিচ্ছিল অবধারিত হার্ট ফেইলিউরের দিকে। বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৫০%। চিকিৎসকরা গর্ভপাতের পরামর্শ দিলেও, মা মার্গারেট হাল ছাড়েননি। তিনি লিনলিকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিতে চাইলেন।
তিনি বলেন ‘আমাদের সামনে দুটি পথ ছিল- হয় টিউমারটিকে তার শরীর দখল করে নিতে দেওয়া, অথবা তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া। আমরা তাকে জীবন দিতে চেয়েছিলাম।’
গর্ভের বাইরে ২০ মিনিট
২৩তম সপ্তাহে যখন টিউমারটি লিনলির শরীরের সমান বড় হয়ে যায়, তখন টেক্সাস চিলড্রেনস ফিটাল সেন্টারের সার্জনরা এক দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন। জরায়ু কেটে মাত্র ১ পাউন্ড ৩ আউন্স ওজনের লিনলিকে আক্ষরিক অর্থেই ‘বাতাসে ঝুলন্ত’ অবস্থায় বের করে আনা হয়।
২০ মিনিটের সেই রুদ্ধশ্বাস অস্ত্রোপচারে লিনলির হৃৎপিণ্ড প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের চেষ্টায় সে যাত্রা বেঁচে যায় সে। টিউমারের সিংহভাগ কেটে ফেলে চিকিৎসকেরা লিনলিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে জরায়ু সেলাই করে দেন।
দ্বিতীয় জন্ম
অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ ১২ সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিছানায় কাটান মার্গারেট। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০১৬ জুনের ৬ তারিখে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে ৫ পাউন্ড ৫ আউন্স ওজন নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পৃথিবীর আলো দেখে লিনলি।
জন্মের আট দিন পর আরেকটি অস্ত্রোপচারে তার টেইলবোন থেকে টিউমারের বাকি অংশও ফেলে দেওয়া হয়।
