বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেইসবুক পেইজে দাম জানতে চাইলে ইনবক্সে ডাকে কেন?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ছবি : এআই জেনারেটেড
expand
ছবি : এআই জেনারেটেড

নলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে পণ্যের দাম জানতে ‘ইনবক্সে আসুন’- এই লেখাটি দেখেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। স্বনামধন্য অনেক প্রতিষ্ঠানও এই কাজটি করে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে বিরক্তিকর মনে হলেও, এর পেছনে বিক্রেতাদের সুনির্দিষ্ট কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিগত বিপণন কৌশল রয়েছে।

দাম লুকিয়ে রাখার পেছনের মূল কারণসমূহ

ফেসবুক অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করা: সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘হুটসুইট’-এর মতে, ফেসবুক কোনো পোস্টের রিচ বাড়ায় তার ‘এনগেজমেন্ট’- এর ওপর ভিত্তি করে। পোস্টে দাম না থাকলে আগ্রহী ক্রেতারা কমেন্টে ‘দাম কত?’ লিখতে বাধ্য হন।

বিক্রেতাও জবাবে ‘প্লিজ চেক ইনবক্স’ বলেন। এই প্রতিটি কমেন্ট ফেসবুকের অ্যালগরিদমকে সিগন্যাল দেয় যে পোস্টটি জনপ্রিয়। ফলে এটি আরও হাজার হাজার মানুষের নিউজ ফিডে পৌঁছে যায়।

মানসিক বিনিয়োগ ও সরাসরি সম্পর্ক: ‘থিংক মার্কেটিং’ ও ‘কোড-নাইনটিফাইভ’- এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইনবক্সে কথা বলার মাধ্যমে বিক্রেতারা ক্রেতার সাথে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন।

ক্রেতা কষ্ট করে ইনবক্সে মেসেজ পাঠালে পণ্যের প্রতি তার এক ধরনের মানসিক টান তৈরি হয়। তখন চ্যাট অপারেটরের পক্ষে ক্রেতাকে পণ্যটি কিনতে রাজি করানো সহজ হয়।

প্রতিযোগীদের থেকে মূল্য গোপন রাখা: ‘ম্যাশআপ মার্কেটিং’- এর একটি কেস স্টাডি বলছে, প্রকাশ্যে দাম থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বী পেজগুলো সহজেই সেই দাম দেখে ফেলে।

অনেক সময় তারা ক্রেতা আকর্ষণের জন্য নিজেদের পেজে একই পণ্যের দাম কিছুটা কমিয়ে দেয়, যাকে ‘প্রাইস আন্ডারকাটিং’ বলা হয়। ইনবক্সে দাম জানালে এই ভয় থাকে না।

গবেষণায় উঠে আসা বিপরীত ও ক্ষতিকর প্রভাব-

বিক্রেতারা একে দারুণ কৌশল ভাবলেও গবেষণায় এর নেতিবাচক দিক উঠে এসেছে। কম্বোডিয়ার ক্যামএড বিজনেস স্কুলের গবেষক ভেউং চান্দারা তার ‘ইনবক্স ফর প্রাইস’ গবেষণায় দেখেন:

বিক্রি কমে যাওয়া: যে বিজ্ঞাপনে দাম পরিষ্কার লেখা ছিল (ট্রান্সপারেন্ট প্রাইসিং), সেটির বিক্রি ইনবক্সে দাম লুকানো বিজ্ঞাপনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

সম্পদ ও সময়ের অপচয়: ইনবক্সে ক্রেতাদের সামলাতে বিক্রেতাদের অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও জনবল লাগে, যা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয়।

আস্থার সংকট: ‘লিংকডইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক ক্রেতারা এই প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ ও অপেশাদার মনে করেন, যা পেজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আস্থা কমিয়ে দেয়।

ক্রেতা হিসেবে আপনার করণীয়-

সরাসরি কমেন্ট করা: দাম জানতে সরাসরি কমেন্টে প্রশ্ন করুন। অনেক সময় আপনার কমেন্ট দেখে অন্য কোনো সচেতন ক্রেতা আসল দামটি সেখানে ফাঁস করে দিতে পারেন, যা আপনার সময় বাঁচাবে।

দাম তুলনা করা: যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘হুইচ’-এর মতে, ইনবক্সে দাম জানার পর হুট করে টাকা পাঠাবেন না। একই পণ্য অন্য পেজ বা গুগলে সার্চ করে দাম মিলিয়ে নিন।

দরকষাকষি করা: ইনবক্সে যেহেতু সরাসরি কথা হয়, তাই অন্য পেজের কম দামের উদাহরণ দিয়ে ডিসকাউন্ট বা ফ্রি ডেলিভারির দাবি করুন।

অস্বচ্ছতা থাকলে এড়িয়ে চলা: ‘ফোর্বস’ ও ‘হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ’ মনে করে, দাম নিয়ে লুকোচুরি করা সততার অভাব লক্ষণ। বিক্রেতা দাম বলতে গড়িমসি করলে বা জোর খাটালে সেখান থেকে পণ্য না কেনাই শ্রেয়।

রিভিউ ও রেটিং দেখা: ইনবক্সে যাওয়ার আগে পেজের রিভিউ ও কমেন্ট সেকশন দেখে নিন। অন্য ক্রেতারা পণ্য কেমন পেয়েছে ও কত দামে কিনেছে, তার ধারণা সেখান থেকেই পেয়ে যাবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন