সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলল যে ৫ টুথপেস্টে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষার জন্য নেওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

রোববার (২৬ জুলাই) গবেষণার ফল প্রকাশ করে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

নমুনাগুলোর পরীক্ষণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে।

গবেষণায় পাঁচটি টুথপেস্টে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা পাওয়া যায়, যা তালিকার সর্বোচ্চ। ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ—উভয়টিতে ১৬০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ১৪০টি এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি কণা।

গবেষণা অনুযায়ী, পরীক্ষিত নমুনার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। গবেষকদের ভাষ্য, বিষয়টি ভোক্তা সুরক্ষা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

এদিকে দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনো সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ জানান, তারা আগে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বিষয়টি সম্পর্কে শুনলেও বিস্তারিত ধারণা নেই বলে জানান। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে উল্লেখ করেন।

একই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহৃত টুথপেস্টের ব্র্যান্ড সম্পর্কেও তথ্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড হিসেবে মেডিপ্লাসের নাম উল্লেখ করেছেন ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। এরপর ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। সংস্থাটির উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানদণ্ডে ৪০ ধরনের অনুমোদিত উপাদান ও কণার আকার নির্ধারণ করা আছে। তবে নতুন গবেষণার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক-সংক্রান্ত বিষয়গুলো মানদণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ইএসডিওর মতে, দেশে এখনো টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দিষ্ট পদ্ধতি, বাধ্যতামূলক লেবেলিং বা আলাদা কোনো জাতীয় নীতিমালা নেই। তাই জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় এ বিষয়ে দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন