সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাইরাল নাচের ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই শিক্ষিকা 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নাচের ভিডিওটি স্কুল চলাকালীন নয়; ছুটির সময়ে নয়; বরং ছুটির সময় বলে দাবি করছেন তিনি ও তার সহকর্মীরা।

‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ তার ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি আসিফ ইকবাল হিরণ নামের এক প্রবাসী তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং এবং সামাজিক হেনস্তার অভিযোগ করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমকে বিউটি রাণী পাল বলেন, ‘আমি আসলে রিল (গানসহ ছোট ভিডিও) বানাতে জানি না। আমার এক সহকর্মীকেই বলছিলাম যে কীভাবে রিল বানায়। স্কুল ছুটির পরে স্কুলের আঙিনাতেই আমি হেঁটে গেছি আর উনি ভিডিওটা করেছেন।’

তিনি জানান, প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করেন চার বছর আগে। সেখানে তাকে ইংরেজিতে কথা বলতে শোনা যায়। সর্বশেষ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খেলার ছলে অঙ্ক শেখাচ্ছেন। এই আটটি ভিডিওর কোনোটিতেই কোনো গান নেই। গানযুক্ত ভাইরাল ভিডিওটি তিনি এরই মধ্যে ডিলিট করে দিয়েছেন।

যারা সমালোচনা করছেন, তাদের নিয়ে বিউটি রাণী বলেন, ‘আমরা মুখে দিয়ে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিব? আমাদের মনমানসিকতা যদি এখন ডিজিটালাইজড না করি, স্মার্ট না হই, উন্নত না করি, তাহলে আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমাদের সব দিক দিয়ে সমানতালে চলতে হবে।’

শিক্ষিকার দাবি, আসিফ ইকবাল হিরণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। হিরণ তাকে ফোন করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন (বাড়ি কোথায়, তিনি স্থানীয় কি না) করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। শিক্ষিকা তাকে পোস্টটি ডিলিট করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন।

এই ঘটনার পর সারা দেশের শিক্ষক সমাজ, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষিকার সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন। হাজারো শিক্ষিকা বিউটি রাণীর ব্যবহৃত গানটি দিয়েই ভিডিও তৈরি করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’

তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিলে সমাজ সবচেয়ে বেশি নৈতিক হবে।’

অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি আইনি জটিলতায় না গিয়ে সারা দেশের মানুষের দেওয়া নৈতিক সমর্থনকেই তার শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন