

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফেসবুক বা মেসেঞ্জার খুললেই হঠাৎ স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটি বার্তা- “Find a missing child in your area” (আপনার এলাকায় নিখোঁজ শিশুকে খুঁজুন)। সম্প্রতি বাংলাদেশের বহু ব্যবহারকারী এই নোটিফিকেশন দেখে বিভ্রান্ত বা চিন্তিত হচ্ছেন।
তবে এটি কোনো স্ক্যাম বা ভাইরাস নয়, বরং নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ, যার নাম ‘মুন অ্যালার্ট’ (MUN Alert)। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
নিচে এর কার্যপদ্ধতি ও গুরুত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. তথ্য সংগ্রহ: কোনো শিশু নিখোঁজ হলে পরিবার দ্রুত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট টিমকে অবহিত করে।
২. যাচাইকরণ: কর্তৃপক্ষ শিশুর ছবি, পরিচয় ও নিখোঁজের শেষ অবস্থান নিখুঁতভাবে যাচাই করে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা তৈরি করে।
৩. বার্তা প্রেরণ: জিও-টার্গেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি যে এলাকায় হারিয়েছে, ঠিক সেই নির্দিষ্ট এলাকা এবং তার আশেপাশের ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের ফোনে সরাসরি নোটিফিকেশন পাঠানো হয়।
কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ছড়াতে সময় লাগলেও, মুন অ্যালার্ট সরাসরি ব্যবহারকারীর ফোনে পৌঁছে যায়।
প্রযুক্তি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে এটি কাজ করে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা সাধারণ মানুষ সতর্ক থাকায় শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
বৈশ্বিক আদলে তৈরি এই ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সব এলাকায় সমান কার্যকারিতা বা শতভাগ প্রশাসনিক সমন্বয় এখনো তৈরি হয়নি।
ফেসবুকের এই ছোট্ট নোটিফিকেশনটি কেবলই কোনো ডিজিটাল বার্তা নয়; এটি প্রযুক্তি ও মানবিকতার এমন এক সম্মিলিত প্রয়াস, যা একটি নিখোঁজ শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।
