

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। এছাড়া চার জনকে যাবজ্জীবন ও ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।
আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল।
আলোচিত এ মামলায় রায় ঘোষণার খবর প্রকাশ হতেই নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান।
এনপিবি পাঠকদের জন্য সেই জবানবন্দিটি তুলে ধরা হলো:
জবানবন্দিতে নুসরাত বলেন, ‘২৭ মার্চ প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত দেন এবং আমি এর প্রতিবাদ করি। প্রতিদিন আমার (নুসরাত) বড় ভাই আমাকে মাদ্রাসায় নিয়ে যায় এবং নিয়ে আসে। ঘটনার দিন আমাকে মাদ্রাসায় নিয়ে এলে আমার বড় ভাইকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর বোরকা ও নেকাব পরা চারজন আমাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল স্যারের বিরুদ্ধে আমার দেওয়া অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি বলি, আমার মৃত্যু পর্যন্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব।’
নুসরাত আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে চারজন আমাকে ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় গ্লাসে থাকা তরলজাতীয় কিছু আমার দিকে ছুড়ে দেয়। এরপর গ্লাসটি আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। তারা আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত চলে যায়। ২৭ মার্চ প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত দেন এবং আমি এর প্রতিবাদ করি।’
নুসরাতের মৃত্যুর পর ‘তাকে হত্যার মামলায়’ বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। বেঞ্চটি ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করেন। এ বেঞ্চে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গত ২৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়েছিল। শুনানি শেষ হয় ২০ আগস্ট। সেদিন রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী আজ রায় দিলেন আদালত।


