সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুসরাত হত্যা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন; খালাস ১০

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
নুসরাত জাহান রাফি
expand
নুসরাত জাহান রাফি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চারজনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আর খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে নুসরাতের মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন-সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত ৯ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তৎকালীন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন ট্রাইব্যুনাল। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাইবার ট্রাইব্যুনালে প্রকাশিত রায়। পরে আসামিপক্ষ সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও সংশ্লিষ্ট বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন হাইকোর্টের এ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ১৪ জুন বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির আপিলের শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও মুহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম ও মাহবুবা তাসনিম আখি।

আদালতের আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, ১৬ আসামির আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপনের পর গত বুধবার প্রথমার্ধে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে রাষ্ট্রপক্ষ চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া শুরু করে, যা বৃহস্পতিবার শেষ হয়।

সেদিন তিনি বলেন, এখন ন্যায়বিচারের দায়ভার আদালতের ওপর। আসামিপক্ষ এ দেশের নাগরিক, ভিকটিমও এ দেশের নাগরিক। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা হোক।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছিলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলে তাকে সাজা দেওয়া ঠিক নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন