সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার চাঞ্চল্যকর ফল, পাল্টে গেল মামলার মোড় ‎

‎রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
পঞ্চগড়ে গণধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
expand
পঞ্চগড়ে গণধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

পঞ্চগড়ে এক নারীর দায়ের করা গণধর্ষণের মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার দায় থেকে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে ওই নারীর বাড়িওয়ালার সঙ্গে। মিথ্যা মামলা দায়ের করায় ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

‎রোববার (২৩ আগস্ট) আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ ও আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ সময় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলার নথিপত্র, পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ আদেশ দেন। গত ১২ আগস্ট আদালত আদেশ দিলেও বিষয়টি রোববার জানাজানি হয়।

‎মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন ওই নারী। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার তিন মাইল এলাকায় আসামিরা ও অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জন তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করেন।

‎পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে অভিযোগটি মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ কোনো নারাজি আবেদন করেনি।

তদন্তের সময় জব্দ করা আলামতের ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই নারীর কাপড়-চোপড়ে পাওয়া বীর্যের সঙ্গে মামলার কোনো আসামির ডিএনএর মিল নেই। ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়।

‎মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে।

‎আদালতের আদেশে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে ওই নারীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন বা মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

‎রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার সব নথিপত্র, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণের পর আদালত যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত। এর মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধের বাইরে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি আইনি বার্তা গেছে।

‎অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান রাশেদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের আদেশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে নির্দোষ ব্যক্তিরা হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন