

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে, বিষয়টি তদন্তের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই তাঁর উদ্দেশ্য। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট টুথপেস্ট বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে।
আদালতের এই নির্দেশের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন। গত রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এসডো) দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফল প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণার লক্ষ্য ছিল টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিগত বাস্তবতা মূল্যায়ন করা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে আধুনিক স্টেরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণার ফল অনুযায়ী, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নমুনায় এ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে গবেষণায় উঠে এসেছে শিশুদের ব্যবহারের জন্য বাজারজাত টুথপেস্ট। পরীক্ষা করা ছয়টি শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব নমুনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভোক্তারা পণ্যের উপাদান সম্পর্কে অবগত হতে পারছেন না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষেও কার্যকর তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা, মানদণ্ড প্রণয়ন এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

