

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্ষাকাল অনেকের জন্য স্বস্তির হলেও, অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীদের জন্য এই ঋতুটি বেশ ঝামেলার হতে পারে। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ছত্রাক (মোল্ড), ধুলাবালি এবং ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে এ সময় শ্বাসকষ্টের সমস্যা হুট করেই বেড়ে যায়।
একটু সচেতনতা আর কিছু নিয়ম মেনে চললে এই বর্ষাতেও অ্যাজমার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
কেন বর্ষায় অ্যাজমার সমস্যা বাড়ে?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বা গুমোট ভাব অনেক বেশি থাকে। এই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছত্রাক ও ধুলোবালির অতি ক্ষুদ্র জীবাণু (ডাস্ট মাইট) দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
এছাড়া আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন এবং চারপাশের ভাইরাল সংক্রমণের কারণে শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয়, যা অ্যাজমার আক্রমণকে বাড়িয়ে দেয়।
ঘরবাড়ি শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন
ঘরের দেয়াল, বাথরুম, রান্নাঘর বা যেকোনো স্যাঁতসেঁতে কোণায় যেন ছত্রাক জমতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং ঘরের ভেতর যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখুন।
ধুলাবালি ও অ্যালার্জেন থেকে সাবধান
বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও জানালার পর্দা নিয়মিত গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঘরে কার্পেট বা লোমশ নরম খেলনা থাকলে তা দ্রুত ধুলাবালি টেনে নেয়, যা অ্যাজমার সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
ইনহেলার সবসময় সাথে রাখুন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার নিয়মিত কন্ট্রোলার ইনহেলারটি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। আর যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা হঠাৎ শ্বাসকষ্টের জন্য রিলিফ ইনহেলারটি সবসময় নিজের হাতের কাছে বা ব্যাগে রাখুন।
বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
বৃষ্টির ঠান্ডা পানি আর ভেজা আবহাওয়া অনেকের শ্বাসকষ্টের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। তাই কোনো কারণে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব গা ও মাথা ভালো করে মুছে শুকনো কাপড় পরে নিন।
সর্দি-কাশিকে অবহেলা করবেন না
বর্ষার এই সময়ে ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। সর্দি-কাশিকে সাধারণ ভেবে অবহেলা করবেন না, কারণ এটি পরে অ্যাজমার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। কয়েক দিনের বেশি কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ধোঁয়া ও কড়া গন্ধ এড়িয়ে চলুন
সিগারেটের ধোঁয়া, মশার কয়েল, ধূপকাঠি কিংবা রান্নার ঝাঁঝালো ধোঁয়া শ্বাসনালিতে উত্তেজনা তৈরি করে। অ্যাজমা রোগীদের সুস্থতার জন্য এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরকে হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখা অ্যাজমা রোগীদের জন্য খুব দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শ্বাসনালির কফ বা শ্লেষ্মা পাতলা থাকে, যার ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্টের তীব্রতা অনেকটাই কমে আসে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না
অনেকে একটু ভালো বোধ করলেই নিজের ইচ্ছামতো ইনহেলার বা ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এই ভুলটি একদম করবেন না। এতে হঠাৎ করে অ্যাজমার বড় ধরনের অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
যদি নিচের যেকোনো একটি লক্ষণও দেখা যায়, তবে দেরি না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:
ইনহেলার ব্যবহার করার পরেও যদি শ্বাসকষ্ট না কমে।
কথা বলতে বা সামান্য হাঁটতে গেলে যদি প্রচণ্ড কষ্ট হয়।
শ্বাস নেওয়ার সময় যদি বুক বা পাঁজর ভেতরের দিকে ঢুকে যায়।
অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে ঠোঁট বা আঙুলের নখ যদি নীলচে হয়ে যায়।
খুব দ্রুত ঘন ঘন শ্বাস নিতে হলে বা তীব্র হাঁপানি শুরু হলে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
অ্যাজমা পুরোপুরি নিরাময় না হলেও সঠিক নিয়মে চললে এটিকে একদম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো, হালকা ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা প্রয়োজন।
বর্ষার এই দিনগুলোতে বাড়তি সতর্কতা আর সঠিক চিকিৎসাই আপনাকে একটি স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন দিতে পারে।

