

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বয়সের হিসাব কেবল শরীরের ক্যালেন্ডারে সীমাবদ্ধ নয়- আমাদের অসচেতন জীবনযাপন অনেক সময় শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে প্রকৃত বয়সের চেয়ে দ্রুত প্রবীণ করে তোলে।
বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তশর্করা এবং স্থূলতার কারণে হৃৎপিণ্ডের কার্যকর রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা কমে যায়।
এতে করে পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্যন্ত্র বিকল হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে, সঠিক জীবনধারা গ্রহণের মাধ্যমে বয়সের আগেই বৃদ্ধ হওয়া হার্টকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
হৃদ্যন্ত্রকে সচল ও কর্মক্ষম রাখতে ৪টি কার্যকর পদক্ষেপ হলো:
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বর্জন: তামাকজাত পণ্য হৃৎপিণ্ডের ধমনিগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে। ধোঁয়াযুক্ত সিগারেট কিংবা ধোঁয়াহীন গুটখা, খৈনি ও পানমশলা পুরোপুরি বর্জন করা জরুরি। ক্ষতিকর এই অভ্যাসগুলো ছেড়ে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হার্ট নিজের ক্ষয়ক্ষতি নিজে মেরামত করার প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়।
সোডিয়াম বা নুন গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ: খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা নুন খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। রান্নার অতিরিক্ত নুন এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার (যেমন- চিপস, ক্যানড ফুড) রোজকার খাবার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে।
নিয়মিত ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুত হাঁটা: হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সচল থাকার বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের মতে, দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট এমন গতিতে হাঁটা উচিত যেন কার্ডিওভাসকুলার অ্যাক্টিভিটি বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহে ন্যূনতম ১৫০ মিনিট (আড়াই ঘণ্টা) ব্রিস্ক ওয়াকিং হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষম বয়স কমিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর।
পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট ঘুমের চক্র: কাজের চাপ থাকলেও প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু ঘুমের সময়সীমা নয়, রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার সুশৃঙ্খল অভ্যাসে হার্টের ওপর বাড়তি ধকল কমে এবং এটি স্বাভাবিক গতি ফিরে পায়।


