

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খালি পেটে চা পান করার অভ্যাস সাময়িকভাবে সতেজতা দিলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিপাকতন্ত্র এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় কিছু নির্দিষ্ট নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চা-এ বিদ্যমান ক্যাফেইন, ট্যানিন এবং থিওফিলিন নামের উপাদানের কারণে প্রধানত এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়।
পাকস্থলীর অ্যাসিড বৃদ্ধি ও এসিডিটি
চা পানের ফলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসরণ হয়। খালি পেটে কোনো খাদ্য না থাকায় এই অ্যাসিড সরাসরি গ্যাস্ট্রিক মিউকোসা বা পাকস্থলীর ভেতরের সংবেদনশীল আস্তরণে আঘাত হানে। এর ফলে বুক জ্বালা করা, পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং পেটে অস্বস্তি বা ব্যথার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি থেকে গ্যাস্ট্রাইটিস বা পেটের আলসারও হতে পারে।
পরিপাক ও পুষ্টি শোষণে বাধা
চা-এ থাকা ট্যানিন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং খাদ্যের আয়রন (লোহা) ও ক্যালসিয়াম শোষণে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। নিয়মিত খালি পেটে চা খেলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা (এনিমিয়া) দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া, এটি আমাদের হজমরস বা এনজাইম ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটিয়ে স্বাভাবিক হজমক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ডিহাইড্রেশন ও বিপাকীয় গোলযোগ
ক্যাফেইনের ডাইইউরেটিক (মূত্রবর্ধক) বৈশিষ্ট্যের কারণে খালি পেটে চা খেলে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটস বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়তে পারে। একই সাথে এটি সকালে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাকীয় গতিতে অনিয়ম তৈরি করে, যা বমি বমি ভাব বা মাথার মধ্যে হালকা লাগার মতো অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও রক্তে শর্করা
সকালে খালি পেটে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে মানসিক চাপ বাড়ানোর হরমোন 'কোর্টিসল'-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে হঠাৎ করে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অস্থিরতা, হাত কাঁপাকাঁপি বা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। রক্তে শর্করার সাময়িক তারতম্য ঘটে সারাদিন পরিশ্রমে দ্রুত ক্লান্তি ও অলসতা বোধ হতে পারে।


