

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মী—পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়ার দৃষ্টিতে বৈধ নয় বলে জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা।
তিনি বলেন, ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক-সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে শরিয়ার বিধান পরিবর্তিত হতে পারে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। যারা ইসলামি মূল্যবোধ, আকিদা ও শরিয়ার পক্ষে কথা বলেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামেও এমন কিছু করা উচিত নয়, যা ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পীর সাহেব দেওনা বলেন, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র, জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীসহ শরিয়াসম্মত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস সংরক্ষিত হবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ন থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে সেই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি অবশ্যই দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
দেশের বরিত এই আলেমে দ্বীন আরও বলেন, স্বৈরাচারী আমলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক উলামায়ে কেরাম কারাবরণ করেছেন এবং অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ সেই আলেমদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না; কিন্তু তাঁদের মহান জীবন, ত্যাগ ও আদর্শ ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী আলেম ও শহীদদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
এ সময় তিনি ২০১৩ সালের শাপলা শহীদদের কথা স্মরণ করে সে ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে সংযোজনের দাবিও জানান।