

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া যেকোনো সন্তানের জন্যই একটি অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা। ফলাফল প্রকাশের পর সাধারণত ভুলত্রুটি সংশোধন বা শাস্তির ভয় থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, হতাশা ও হীনমন্যতা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকের ভূমিকা কেবল একজন বিচারকের নয়, বরং একজন সহমর্মী অভিভাবক ও মেন্টরের হওয়া উচিত।
সন্তানের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ না দিয়ে তার মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে উপায় নিচে উপস্থাপন করা হলো।
১. তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
ফলাফল জানার পরপরই রাগ, ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অভিভাবকের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো সন্তানকে একটি নিরাপদ ও ভয়হীন পরিবেশ প্রদান করা।
সন্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যে, একটি পরীক্ষার ফলাফল তার পুরো জীবন বা তার মেধার একমাত্র পরিচায়ক নয়। এই সময়ে তাকে বকাঝকা না করে সান্ত্বনা দেওয়া এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা তার ভেতরে একা হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা অপরাধবোধ কমাতে সাহায্য করে।
২. সামাজিক তুলনা বন্ধ করা
সন্তানের উপস্থিতিতে বা গোপনে তার সহপাঠী, ভাইবোন বা প্রতিবেশীর সন্তানের ফলাফলের সাথে তুলনা করা মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ধরনের তুলনা সন্তানকে নিজের ওপর বিশ্বাস হারাতে বাধ্য করে এবং তার আত্মমর্যাদাবোধ চূর্ণ করে দেয়।
প্রত্যেক শিশুর শেখার গতি, দক্ষতা ও প্রতিভা ভিন্ন—এই সত্যটি অভিভাবককে গ্রহণ করতে হবে এবং সন্তানকে তার নিজের সক্ষমতার ওপর ভরসা রাখতে উৎসাহিত করতে হবে।
৩. আলোচনা ও কারণ অনুসন্ধান
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সন্তানের সাথে খোলামেলা আলোচনা শুরু করা উচিত। ফলাফল কেন আশানুরূপ হয়নি- পড়াশোনার কৌশলগত ভুল, সময় ব্যবস্থাপনার অভাব, না কি কোনো ব্যক্তিগত বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল- তা কোনো প্রকার অভিযুক্ত করার মনোভাব ছাড়া জানার চেষ্টা করতে হবে। এই আলোচনায় সন্তানের মতামত মন দিয়ে শোনা এবং তাকে নিজস্ব চিন্তাভাবনা প্রকাশের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৪. স্বাভাবিক রুটিন বজায় রাখা ও শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন
পরীক্ষায় খারাপ করলে অনেক সময় সন্তান নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলে, খাওয়া-দাওয়া বা ঘুম কমিয়ে দেয়। অভিভাবক হিসেবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার দৈনিক পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত থাকে।
মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের সাথে শারীরিক ক্রিয়াকলাপের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। তাকে পরিবারের অন্যান্য স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা এবং কিছুটা বিনোদনের ব্যবস্থা করা তার মানসিক স্থবিরতা কাটাতে সাহায্য করে।
৫. ভবিষ্যতের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গঠন
অতীতের ভুল নিয়ে বারবার খোঁচা না দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে হবে। সন্তানকে সাথে নিয়ে ছোট ছোট ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
দীর্ঘদিনের ভুল পড়ার অভ্যাস বা দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কীভাবে নতুন কৌশলে এগোনে যায়, সে বিষয়ে গাইডলাইন দিন।
প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ শিক্ষক বা শিক্ষা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, যা সন্তানের মনে একটি নতুন আশার সঞ্চার করবে।
৬. পেশাদার মানসিক পরামর্শকের সহায়তা গ্রহণ
ফলাফল খারাপ হওয়ার পর সন্তানের মধ্যে যদি দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা, চরম নীরবতা, অতিরিক্ত রাগ, আত্মহত্যার প্রবণতা বা মারাত্মক আচরণগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, তবে এটিকে অবহেলা করা যাবে না।
সেক্ষেত্রে অবিলম্বে একজন পেশাদার চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সিলরের কাছে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। সময়মতো পেশাদার সহায়তা সন্তানের সম্ভাব্য মানসিক সংকট রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
