শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিডনি ক্যানসার বাদেও যে ৪ কারণে প্রস্রাবে রক্ত আসে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের দেশে অনেকেই ধরে নেন এটি হয়তো কিডনি ক্যান্সারের লক্ষণ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার পেছনে ক্যান্সারের বাইরেও বেশ কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ খেয়াল করলেই বোঝা সম্ভব এটি কতটা গুরুতর।

প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় 'হিমাচুরিয়া'। ক্ষেত্রবিশেষে প্রস্রাবের রং হালকা লালচে কিংবা গাঢ় লাল হতে পারে। বয়স বাড়লে এই সমস্যা বেশি দেখা গেলেও, আজকাল তরুণদের মধ্যেও এটি বাড়ছে।

কখন এটি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবে রক্তের সাথে যদি কোনো ব্যথা বা জ্বালাপোড়া না থাকে, তবে বিষয়টি একদমই অবহেলা করা ঠিক নয়। ব্যথাহীন এই রক্তপাত ক্যান্সারের একটি বড় সংকেত হতে পারে।

সাধারণত কিডনি ক্যানসার সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। প্রস্রাবে রক্তের পাশাপাশি যদি নিচের লক্ষণগুলো থাকে, তবে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:

  • পিঠের নিচের দিকে বা পেটে টানা ব্যথা থাকা।
  • পিঠের নিচের অংশে কোনো ফোলা ভাব বা চাকা (মাংসপিণ্ড) অনুভূত হওয়া।
  • কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা।

পরামর্শ: রক্তপাত একবার হোক বা বারবার, ব্যথা থাকুক বা না থাকুক- অবিলম্বে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা সাধারণত হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা, ইউরিন কালচার এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন।

রক্ত যাওয়ার অন্যান্য সাধারণ কারণ

সব ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার মানেই ক্যানসার নয়। অন্যান্য যে সমস্ত কারণে এই সমস্যা হতে পারে:

১. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)

প্রস্রাবের রাস্তায় বা মূত্রনালিতে ইনফেকশন (ইউটিআই) খুব বেশি জটিল আকার ধারণ করলে প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসতে পারে।

২. কিডনিতে পাথর

কিডনিতে পাথর হলে বা তা নড়াচড়া করলে রক্তপাত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যানসারের মতো ব্যথাহীন অবস্থা থাকে না, বরং:

  • পেটের নিচে বা পিঠের একপাশে হঠাৎ তীব্র ও অসহ্য ব্যথা হয়।
  • সারাক্ষণ গা গোলাণো বা বমি ভাব থাকে।
  • প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া ও যন্ত্রণা হয়। (পাথর বড় হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লেজার থেরাপি বা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি করতে হতে পারে।)

৩. প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি (BPH)

বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে (বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া) প্রস্রাবে রক্ত আসতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো:

  • রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ আসা।
  • প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট হওয়া বা চাপ ধরে রাখতে না পারা।

৪. কিডনির প্রদাহ (Glomerulonephritis)

প্রস্রাব লালচে হওয়া, ঘনঘন রক্ত যাওয়া এবং প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া কিডনিতে মারাত্মক প্রদাহের লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হাত, পা ও মুখ ফুলে যেতে পারে। এমনটা দেখলে দ্রুত আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো উচিত।

পরিশেষে বলা যায়, প্রস্রাবে রক্ত আসা মানেই যে নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার- এমনটা ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু একে অবহেলা করাও মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

কারণ এটি হতে পারে সাধারণ ইউটিআই বা পাথরের সমস্যা, আবার হতে পারে জটিল কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা।

তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করাই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সেরা উপায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন